প্রথম আলো
আমার ব্লগ
সমকাল
www.thedailystar.net
Somewherein Blog
Feed Display
Counter
Content View Hits : 104520| বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনার ইতিহাস |
|
|
|
| Written by Administrator | ||
| Tuesday, 25 May 2010 18:58 | ||
|
http://www.amarblog.com/index.php
লিখেছেন : তন্ময় ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার), ২০০৯ ৯:৫২ অপরাহ্ন
![]() তথ্যপ্রমান ঘেটে আনুষ্ঠানিক ইতিহাস থেকে নিচের কালক্রমটি পাওয়া যায়: ► ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর থেকে ২৬ মার্চ ভোরের কোনো এক সময়ের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার একটি ঘোষণাপত্র লিখেছিলেন। ► ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষণাপত্রটি সম্প্রচার করা হয়। তবে খুব কম মানুষই সম্প্রচারিত ঘোষণাটি শুনতে পেয়েছিল। ► ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ কালুরঘাট থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে একটি ঘোষণা পাঠ করেন। ওই ঘোষণা বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো শুনতে পেয়েছিল এবং বিশ্ব বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার ব্যাপারে জানতে পারে। ******************************************************** ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চে দেয়া বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে নিচের লিংকগুলো ভিজিট করতে পারেন - ক. একটি অডিও সাক্ষাৎকার (বাংলা) - জার্মানীর ডয়েশ ভেলে খ. ঘোষনা নিয়ে তৎকালীন (১৯৭১ সালে) মেজর জিয়াউর রহমানের বক্তব্য গ. এই ঘোষনার সাথে সরাসরি জড়িত কয়েকজন সাহসী মানুষের কথা নিয়ে একটি চমৎকার পোষ্ট - স্বাধীনতার বিস্মৃত সেই ডাক-হরকরাদের কথা - অমি রহমান পিয়াল ঘ. আমেরিকান বিভিন্ন সরকারী এজেন্সী/ বেসরকারী মিডিয়া বঙ্গবন্ধুর ঘোষনর কথা ১৯৭১ সালের মার্চ/এপ্রিল মাসেই উল্লেখ করেছিল। তাদের কয়েকটির নাম রিপোর্টিং ডেইটসহ উল্লেখ করা হল : সূত্র: এন ওয়াই বাংলা ১. আমেরিকান ডিফেন্স ইনটেলিজেন্স এজেন্সী (২৬শে মার্চ, ১৯৭১) ২. আমেরিকান ডিপার্টমেন্ট অব স্টেইট টেলিগ্রাম (৩১শে মার্চ, ১৯৭১) ৩. আমেরিকান সিনেট রিপোর্ট (জুলাই ২৭, ১৯৭১) ৪. নিউ ইয়র্ক টাইমস (২৭শে মার্চ, ১৯৭১) ৫. ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল (২৯শে মার্চ, ১৯৭১) ৬. টাইম (৫ই এপ্রিল, ১৯৭১) ৭. নিউজউইক (৫ই এপ্রিল, ১৯৭১) ৮. বাল্টিমোর সান (৪ই এপ্রিল, ১৯৭১) ৯. আমেরিকান ডিপার্টমেন্ট অব স্টেইট- রিসার্চ স্টাডি (ফেব্রুয়ারী ২, ১৯৭২) ঙ. বর্তমান সরকার ১৯৮২ সালে সরকারী ভাবে প্রকাশিত স্বাধীনতার দলিলপত্রের উপর ভিত্তি করে বঙ্গবন্ধুর ২৬ তারিখের ঘোষনার কথা উল্লেখ করছে পাঠ্যবইগুলোতে। পাঠক সময়কালটা লক্ষ্য করবেন, ১৯৮২ সাল। তখন প্রকাশিত সরকারী দলিলেও ২৬শে মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষনের কথা আছে। স্ক্যান করা পাতাটি দেখা যাবে এখানে। চ. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা মাশুকুর রহমান ও মাহবুবুর রহমান জালাল ছ. স্বাধীনতার ঘোষনা: এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ননা (কৃতজ্ঞতা: আদিল মাহমুদ) জনাব আবদুল শুক্কুর ছিলেন ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ থেকে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র চালু রাখার দায়িত্বে। তার পাশে বসেই ২৭ শে মার্চ জিয়া ঘোষনা পাঠ করেন। জ. বিএনপি নেতা জেনারেল মীর শওকত আলীর বক্তব্য (কৃতজ্ঞতা: আদিল মাহমুদ) ঝ. Swadhin Bangla Betar Kendro - The story of March 26,1971- By M. A. Yusuf Bangladesh Observer_April 23_1972 ঞ. একটি অসাধারন স্মৃতিচারন করেছেন ঢাকা ইউনির অধ্যাপক, প্রতিথযশা পদার্থবিজ্ঞানী ড: অজয় রায়- ২৫শে মার্চের কাল রাত্রি এবং স্বাধীনতার ঘোষণা - ড: অজয় রায় চ. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্থপতি বেলাল মোহাম্মদের সাক্ষাৎকার (বিডিনিউজ) ভিডিও ১ ভিডিও ২ ভিডিও ৩
"); oDoc.document.write(oContent + ""); oDoc.document.close(); } // -->
বিভাগ: আলোচনা, ইতিহাস, গণমাধ্যম, দেশ, মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি ট্যাগ বাংলাদেশ, স্বাধীনতা ঘোষনা, ১৯৭১, ২৬শে মার্চ ১১৪৭ বার পঠিত ৭২ টি মন্তব্য
এহহামিদা মার্চ ২৬, ২০০৯ @ ১০:২৪ অপরাহ্ন ২
মার্চ ২৮, ১৯৭১: মেজর জিয়া এবং বাংলাদেশের ‘প্রাদেশিক সরকার’ এহহামিদা মার্চ ২৬, ২০০৯ @ ১০:২৭ অপরাহ্ন ২.১
2.10
তন্ময় মার্চ ২৭, ২০০৯ @ ১২:১৯ পুর্বাহ্ন ২.২
এতবড় গবেষনার থেকে শুধু এইটুকু নিজের দিকে পাওয়া গেল? আপসোস! শোনেন আমার কাছে জেনারেল জিয়ার ভূমিকা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অবশ্যই শ্রদ্ধেয়.... ঠিক তেমনি তিনি অশ্রদ্ধেয় হয়ে যান যখন গোলাম আযম কে দেশে আসতে দেন, রাজাকার- আলবদরদের পুনর্বাসন করেন...যাই হোক এই পোস্ট সে বিষয়ে নয় তাই সেই দিকে কথা বাড়াচ্ছি না... আমেরিকান বিভিন্ন এজেন্সী বঙ্গবন্ধুর ঘোষনা কথা ১৯৭১ সালের মার্চ/এপ্রিল মাসেই উল্লেখ করেছিল। তাদের কয়েকটির নাম উল্লেখ করা হল রিপোর্টিং ডেইটসহ: সূত্র: এন ওয়াই বাংলা ১. আমেরিকান ডিফেন্স ইনটেলিজেন্স এজেন্সী (২৬শে মার্চ, ১৯৭১) ২. আমেরিকান ডিপার্টমেন্ট অব স্টেইট টেলিগ্রাম (৩১শে মার্চ, ১৯৭১) ৩. আমেরিকান সিনেট রিপোর্ট (জুলাই ২৭, ১৯৭১) ৪. নিউ ইয়র্ক টাইমস (২৭শে মার্চ, ১৯৭১) ৫. ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল (২৯শে মার্চ, ১৯৭১) ৬. টাইম, নিউজউইক (৫ই এপ্রিল, ১৯৭১) ৭. বাল্টিমোর সান (৪ই এপ্রিল, ১৯৭১) ৮. আমেরিকান ডিপার্টমেন্ট অব স্টেইট- রিসার্চ স্টাডি (ফেব্রুয়ারী ২,১৯৭২) আর দুজন মানুষ (মাশুকুর রহমান, মাহবুবুর রহমান জালাল) অনেক পরিশ্রম করে উপরের আর্টিকেলটি দাড় করিয়েছেন... কেউ সেটা ফু দিয়ে উড়িয়ে দিতে চাইলেই তো তা হবার নয়...কেউ কি গ্রহন করতে প্রস্তুত বা অপ্রস্তুত তাতে ইতিহাসের কোন ক্ষতিবৃদ্ধি নেই, সে স্বমহিমায় ভাস্বর। 2.20
এহহামিদা মার্চ ২৬, ২০০৯ @ ১০:৩৩ অপরাহ্ন ৩
তন্ময় মার্চ ২৭, ২০০৯ @ ১২:৪১ পুর্বাহ্ন ৩.১
বর্তমান সরকার ১৯৮২ সালে সরকারী ভাবে প্রকাশিত স্বাধীনতার দলিলপত্রের উপর ভিত্তি করে বঙ্গবন্ধুর ২৬ তারিখের ঘোষনার কথা উল্লেখ করছে পাঠ্যবইগুলোতে। এহহামিদা সময়কালটা লক্ষ্য করবেন, ১৯৮২ সাল। তখন প্রকাশিত সরকারী দলিলেও ২৬শে মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষনের কথা আছে। স্ক্যান করা পাতাটি দেখা যাবে এখানে। অথবা নিচে: Declaration: SMR, Bangladesh Swadhinata Juddho: Dalil Potro, Volume 3 3.10
সময়১০ মার্চ ২৬, ২০০৯ @ ১০:৪৮ অপরাহ্ন ৪
ইফ্তেখার মোহাম্মদ মার্চ ২৬, ২০০৯ @ ১১:১০ অপরাহ্ন ৪.১
এহহামিদা মার্চ ২৬, ২০০৯ ৯:৩১ অপরাহ্ণ নটি কি বলেন দেখেন, সারাদিন ওরে কেউ গালাগাল দেয়নি বলেই মাথায় উঠছে। 4.10
শাওন মার্চ ২৬, ২০০৯ @ ১১:৪৭ অপরাহ্ন ৫
এহহামিদা মার্চ ২৬, ২০০৯ @ ১০:২৪ অপরাহ্ন ৬
মার্চ ২৮, ১৯৭১: মেজর জিয়া এবং বাংলাদেশের ‘প্রাদেশিক সরকার’ এহহামিদা মার্চ ২৬, ২০০৯ @ ১০:২৭ অপরাহ্ন ৬.১
6.10
তন্ময় জুন ২৫, ২০০৯ @ ১২:৩৭ অপরাহ্ন ৭
70
তন্ময় জুলাই ১, ২০০৯ @ ৫:৩০ অপরাহ্ন ৯
ধসে পড়লো মিথ্যার প্রাসাদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ [লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর] ইত্তেফাক, জুলাই০১, ২০০৯, বুধবার : ১৭ আষাঢ়, ১৪১৬ ------------------------------------------------------------------------------------ হাইকোর্ট রায় দিয়েছে, ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষক। জিয়া নহেন।’ ক্ষেপে গেছে ষড়যন্ত্রকারীরা। এ রায়ের আগেও বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন। এখনও রয়েছেন। ভবিষ্যতেও থাকবেন। সত্য সব সময় সত্য। মিথ্যার রং বদলায়। সত্যের রং বদলায় না। সত্য আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হলেও সত্যই থেকে যায়। মিথ্যার গায়ে একটু টোকা লাগলেই ঝুরঝুর করে ঝরে পড়ে। হাইকোর্ট নতুন কিছু বলে নাই। শুধুমাত্র সত্যকে প্রত্যায়ন করেছে। আমরা যেমন মূল সার্টিফিকেটের অনুলিপির ওপর স্বাক্ষর করে ‘সত্যায়িত’ করি, ঠিক তেমনি হাইকোর্টও মূল সত্যকে কাগজপত্র ও আইন দেখে প্রত্যয়ন করেছে। এই প্রত্যয়নের ফলে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষক হলেন, তা কিন্তু নয়। গেজেটেড অফিসারের সত্যায়িত কাগজ যেমন আইনত গ্রহণযোগ্য, তেমনি হাইকোর্টের এই সত্যায়িত রায়ও আইনের চোখে স্বতঃসিদ্ধ। রায়টি নতুন কিছু না করলেও একটি দুয়ার উন্মোচিত করেছে। মিথ্যাচারকারীদের সনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার দুয়ার এখন খুলেছে। রায়ের পর যারা হৈ-চৈ শুরু করে দিয়েছে, গেল গেল বলে চিৎকার জুড়েছে, খেই হারিয়ে হাইকোর্টের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করছে, তাদের মাঝেই খুঁজে পাওয়া যাবে মিথ্যাচারকারীদের। তাদের মুখোশ তারা নিজেরাই খুলে দিচ্ছে। হাটে হাঁড়ি ভেঙ্গে গেছে। তাদের মুখোশ খুলে পড়ছে। হাইকোর্ট যা বলেছে তাতো আমার নিজের চোখে দেখা, নিজের কানে শোনা, নিজের অভিজ্ঞতালব্ধ। একাত্তর সনে আমি তো নাবালক ছিলাম না। ১৯৪১ সনে বৃটিশ আমলে আমার জন্ম। একাত্তরে বয়স ছিল ত্রিশ। নবপ্রজন্মের কাছে আমি সত্যের নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি, সাতই মার্চ ১৯৭১ প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মহাসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীনতার কৌশলি ঘোষণাটি দিয়েছিলেন, তখন সমাবেশে উপস্থিত একজন শ্রোতা হিসাবে আমার মনে হয়েছিল যে, স্বাধীনতা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার এবং ঐ সময়টুকুতে কি কি করতে হবে সেসব নির্দেশনা পরিষ্কারভাবে ভাষণে ছিল। যুদ্ধের আগে সেনাপতি যেমন সেনাদলকে নির্দেশনা দান করেন, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধুও সাত কোটি বাঙালি সেনাদলকে তেমনই নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ঐ সময় স্বাধীনতার পক্ষের যে নেতাদের আমরা চিনতাম তারা হলেন মওলানা ভাসানী, তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, মনি সিংহ, মোজাফফর আহমদ, জেনারেল ওসমানী প্রমুখ। স্বাধীনতাকামী হিসাবে জিয়াউর রহমান নামে কোন নেতা বা ব্যক্তিকে আমরা চিনতামও না, জানতামও না। জানার কথাও নয়। কারণ তিনি ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন চাকরিজীবী। সাতই মার্চের পর সময় এগিয়ে চললো। এগিয়ে চললো আন্দোলন বঙ্গবন্ধুর ভাষণের নির্দেশিত পথে। তখন মনে হয়েছে, জনতাই স্থানীয়ভাবে নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। রেডিও পাকিস্তানের পরিচালনার দায়িত্ব কেড়ে নিয়েছেন বেতার কর্মীরা। টেলিভিশনে টেলিভিশন কর্মীরা। শিক্ষালয়ে ছাত্ররা, অধ্যাপকেরা। শ্রমাঙ্গনে শ্রমিকেরা। মাঠে-ময়দানে স্থানীয় মানুষেরা। কোথাও এতটুকু বিশৃঙ্খলা নেই। এতবড় এবং এত সুশৃংখল আন্দোলন ও সংগ্রাম আমি আর কোনদিন দেখিনি। সম্ভবতঃ বিশ্বের কোথাও কোনদিন সংঘটিত হয়নি। বাঙালির সে মহাআন্দোলনের একমাত্র নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর কথাই ছিল আইন। সারা বাংলাদেশ চলেছিল একমাত্র তাঁর নির্দেশে। তাঁর সৈন্য ছিল না, পুলিশ ছিল না, আনসার ছিল না, পাইকপেয়াদা ছিল না, বাহিনী ছিল না। এই নিরস্ত্র মানুষটিই ছিলেন পূর্ব বাংলার একমাত্র ক্ষমতাধর চালক, ডি ফ্যাক্টো রুলার। তাঁর নির্দেশ সবাই মেনেছে। সেনারা তাঁর নির্দেশ মেনে সেনানিবাসে ফিরে গেছে। সরকারি অফিস তাঁর নির্দেশমত চলেছে, কর্মচারীদের বেতন দিয়ে দিয়েছে। এমনকি হাইকোর্টও তাঁর নির্দেশ মান্য করে নতুন গভর্নরকে শপথবাক্য পাঠ করায়নি। সব হয়েছে স্বেচ্ছায়। কেউ শক্তি প্রয়োগ করেনি। এ সময়ের মধ্যেও জিয়াউর রহমান নামক কোন ব্যক্তির পরিচয় উঠে আসেনি। সেনা অঙ্গনে লক্ষ্য করেছি, প্রাক্তন সৈনিকেরা সংঘবদ্ধ হচ্ছিলেন। প্রাক্তন ই.পি.আর, পুলিশও সংগঠিত হচ্ছিল। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, সারাদেশে সর্বত্র তখন অস্ত্র প্রশিক্ষণ চলছিল। ছাত্ররা প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। শ্রমিকরা নিচ্ছিল, কৃষকরা বাঁশের লাঠি নিয়ে যুদ্ধের কলাকৌশল শিখছিল। মজার ব্যাপার, প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন প্রাক্তন সৈনিক ও সেইসাথে চাকরিরত অনেক সেনা, পুলিশ, আনসার কমান্ডার। তবে তারা একটু সঙ্গোপনে সাহায্য করেছেন। ডাক্তারেরা আহতদের শুশ্রƒষা, ফাষ্ট এইড শিখিয়েছেন। যারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের কোনই প্রস্তুতি ছিল না, তারা ডাহা মিথ্যা বলছেন। এই যে অস্ত্র প্রশিক্ষণ, শরীর চর্চা এবং মেডিকেল প্রশিক্ষণ, এর কোন পর্যায়েই চট্টগ্রামে বা অন্য কোথাও জিয়াউর রহমান নামক কোন ব্যক্তির উপস্থিতি, সংশ্লিষ্টতা বা পরিচিতি ছিল না। পুরো পূর্ব বাংলাটাই একাত্তরের মার্চের প্রথম থেকে ডি ফ্যাক্টো স্বাধীন ছিল। ৭ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কাঠামোর মধ্যে ‘স্বাধীন অঞ্চল’ হিসাবে বাধাহীনভাবে চলছিল। এই স্ব-অর্জিত স্বাধীনতাকে সংহত করার জন্য এবং কোন প্রকার আঘাত এলে প্রত্যাঘাত করার জন্য প্রস্তুতি এগিয়ে চলছিল। এমনি ঘটনা-দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে চলছিল জনতার সংহতির বিকাশ এবং সম্ভাব্য আঘাতের জবাবে প্রতিরোধ ও প্রত্যাঘাত হানার প্রস্তুতি। এরই মধ্যে চলে এলো পঁচিশে মার্চ। সারাদিনই সারা বাংলাদেশ জনতার দখলে। অপরাহ্ণে গুজব শোনা গেল, পাকসেনারা নাকি ধরপাকড় করবে, আক্রমণ চালাবে আন্দোলনকারীদের ওপর। ছাত্র-শ্রমিক-জনতা রাস্তায় রাস্তায় বেরিকেড দিতে লাগলো চরম উত্তেজনা নিয়ে। গাছের গুঁড়ি, কাঁটাতারের বেড়া, ভাঙ্গা জিনিসপত্র, আন্ডারগ্রাউন্ডের জন্য তৈরী মোটা মোটা কংক্রিটের পাইপ- অর্থাৎ যা হাতের কাছে ছিল তাই দিয়েই রোড ব্লক করা হচ্ছে। রাস্তায় রাস্তায়, পাড়ায় পাড়ায় স্বেচ্ছাসেবীরা পাহারা দিচ্ছে। আমি নিজেও ঢাকা শহরে ঘুরে দেখলাম। সর্বত্র তারুণ্যের উচ্ছলতা ও উচ্ছ্বাস। গুজব সত্ত্বেও আমি কারো মধ্যে শঙ্কার কোন চিহ্ন দেখলাম না। এটাই হয়তো তারুণ্যের ধর্ম। ভয়ের সঙ্গে পরিচয় নেই তারুণ্যের। বরং স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে লক্ষ্য করলাম এক ধরনের আশা। এতদিন ধরে তারা যে আঘাতের প্রতিক্ষায় ছিল, প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল, সে আঘাতকে আলিঙ্গন করার শুভক্ষণ বুঝি আসছে। তারুণ্য আমার মধ্যেও ছিল। কিন্তু কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে সম্ভাব্য আঘাত সম্বন্ধে সচেতন ছিলাম। ভীতি আমাকে গ্রাস করেনি। সম্ভাব্য বিপর্যয় চিন্তা সম্ভবতঃ আমাকে কিছুটা গম্ভীর করেছিল। পঁচিশে মার্চ অপরাহ্নে আমার মানসিক অবস্থাটা ছিল, ‘হয় মরবো, নয় মারবো। আর ঝুলে থাকা নয়। আঘাত এলে প্রত্যাঘাত হানতেই হবে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশমত যার যা আছে, তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’ মনে প্রশ্ন উদয় হত- ‘কিন্তু কিভাবে?’ মনে মনে জবাবও পেতাম, ‘এতদিন যে প্রতীকী লাঠি উঁচিয়ে আন্দোলন করেছি, সেই প্রতীক এখন অস্ত্রে রূপান্তরিত হবে। ওদের ক্যান্টনমেন্ট ঢাকায়, আমাদের ক্যান্টনমেন্ট ঘরে ঘরে। ওদের শক্তি গুলি, আমাদের শক্তি সংহতি। পুলিশ, বিডিআর-এর অস্ত্রও আমাদের অস্ত্র।’- এরকম ভাবতে ভাবতে তখনকার ছোট্ট ঢাকা শহরের বিশ্ববিদ্যালয়, গুলিস্তান, হাটখোলা, ওয়ারী হয়ে কাঠের পুল পার হয়ে গেন্ডারিয়ার ভাড়া বাসায় পৌঁছে গেলাম। এশার নামাজ পড়ে উঠতেই দেখি শেরেবাংলার পুত্র ফয়জুল হক এসেছেন। তিনি আমাদের একই বাসার সন্নিহিত ঘরের ডাঃ শওকতের বন্ধু। ঘরের সামনের খোলা জায়গাটায় বসে আমি, ফয়জুল হক ও ডাঃ শওকত কিছুক্ষণ কথাবার্তা বললাম, বুঝতে চেষ্টা করলাম পরিস্থিতি। কেউই নিশ্চিত কিছু বলতে পারলো না। তবে তিনজনই একমত হলাম যে, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। আমরা আলোচনা করেছিলাম, আল্লাহ না করুন, ওরা যদি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে, তাহলে আন্দোলনের নেতৃত্ব কে নেবে? বঙ্গবন্ধুকে আটক করার কথা আমরা ভাবিনি। তবে ভেবেছিলাম, বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেললে সারাদেশে যুদ্ধ বেধে যাবে। বাঙালি পুলিশ, বিডিআর জনতার পক্ষে থাকবে। পাকসেনারা কিছু ক্ষয়ক্ষতির পর পালিয়ে যাবে। এ সব আলাপের পর ফয়জুল হক চলে গেলেন। বলে গেলেন, কিছু জানলে সংগে সংগে জানাবেন। রাত বাড়তে লাগলো। আমি কিছুক্ষণ ঘরে থাকি। আবার কিছুক্ষণ রাস্তায় চলে যাই। কেমন যেন অস্থিরতা বিরাজ করছিল। মধ্যরাতের দিকে। রাত ১২টা প্লাস-মাইনাস। অনেক দূর থেকে মাইকে কিছু কথা ভেসে আসছিল। কিন্তু বোঝার মত নয়। অল্পক্ষণের মধ্যেই বাসার কাছের বড় রাস্তা থেকে শোনা গেল একটি ঘোষণা, “বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেনঃ”। দু’জন তরুণ দৌড়ে দৌড়ে এ ঘোষণা দিচ্ছিল। আরো একটি বাক্য তারা উচ্চারণ করেছিল। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারিনি। কিন্তু “বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন”- শব্দগুলো স্পষ্ট শুনেছি। আমার কাছে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার সংবাদ বা প্রচার এই প্রথম। নাম না জানা এই প্রচারক কে তা যেমন জানি না, সোর্স কি তাও জানি না। কিন্তু শুনেছি- এটাতো সত্য। তখনো পর্যন্ত জিয়াউর রহমান নামে কোন ব্যক্তির নাম আমরা শুনি নাই। যদিও সিদ্দিকী, তোফায়েল, রব, মাখন, গায়ক জব্বার, এসব তরুণের নাম ছিল সবার জানা। পরদিন ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার সংবাদ বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল, বিদেশী সংবাদ মাধ্যম তার প্রমাণ। তবে দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম ঘোষণাটি চট্টগ্রাম বেতার থেকে প্রচার করেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা এম,এ, হান্নান সম্ভবতঃ দুপুরের দিকে। জোহর নামাজের পর ক্ষীণকণ্ঠে শুনেছিলেন আমার এক বন্ধু। চট্টগ্রামে অনেকেই শুনেছেন। চট্টগ্রামে অবস্থানরত আমার সহকর্মী জানিয়েছিলেন যে, তারা সাইক্লোষ্টাইল করা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাটি হাতে পেয়েছেন। চট্টগ্রামে ২৬ মার্চে রাস্তায় মিছিল-ঘোষণা চলেছে। কিন্তু চট্টগ্রামে অবস্থানরত সেনা অফিসার জিয়াউর রহমান এসবের মধ্যে ছিলেন না, জনতার মধ্যে আসেননি বা স্বাধীনতার প্রচার-প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন নাই। তাঁর কোন পরিচিতিই ছিল না। ২৬ মার্চ এম,এ, হান্নান ছাড়া আর কেউই বেতারে ঘোষণা পাঠ করেননি। হান্নান সাহেবের ঘোষণাপাঠটিই একাধিকবার প্রচারিত হয়েছিল চট্টগ্রাম রেডিও থেকে। পরদিন ২৭ মার্চ সন্ধ্যার দিকে মাগরিব নামাজের পর চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে অপরিচিত জনৈক মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে স্বাধীনতার একটি ঘোষণা পাঠ করেন। প্রথম পাঠকারী এম,এ, হান্নান দেশের পরিচিত রাজনীতিক ছিলেন। তাঁর ঘোষণা পাঠের পরদিন অপরিচিত হলেও একজন মেজরের কণ্ঠে ঘোষণা প্রচার হওয়ায় আমরা খুশী হয়েছিলাম। জিয়াউর রহমান কে- এ নিয়ে ভাবিনি। ভেবেছিলাম একজন বাঙালি চাকরিরত মেজর ঘোষণা পাঠ করেছেন। এর অর্থ হলো বাঙালি সেনা কর্মকর্তারা জনগণের সংগ্রামে যোগ দিচ্ছেন। একারণেই আমাদের সন্তোষ। ২৫ মার্চের আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পী, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবীবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছিলেন, যা ছিল জাতীয় ঐক্যের প্রমাণ। ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় একজন মেজরের ঘোষণা পাঠে আমরা ধরে নিলাম বাঙালি সেনারাও আমাদের সঙ্গে থাকবেন। যদিও মেজর জিয়াকে আমরা বাঙালি সেনা প্রতিনিধি ভাবিনি- ভেবেছি সেনাসদস্যদের মধ্যে স্যাল বা নমুনা হিসাবে। তখনকার মত আমাদের ধারণা হল বাঙালি সেনাদের কেউ আমাদের সঙ্গে আসবেন। আবার কেউ হয়তো আসতে পারবেন না। মনে পড়ছে, এরপর থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা, সেনাসদস্য ও সুধীজন বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার কথা বলেছিলেন অথবা ঐ ঘোষণার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন। পনের আগষ্টের ষড়যন্ত্র না হলে, হান্নান সাহেব ও অন্যদের মত জিয়াউর রহমানও স্বাধীনতা ঘোষণার অন্যতম পাঠক এবং সেনাসদস্যদের মধ্যে প্রথম পাঠক হিসাবে আমাদের শ্রদ্ধার পাত্র হয়েই থাকতেন। অপরিচিত একজন সৈনিক মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাসে গৌরবের স্থানও পেতেন। এখনও তিনি তাই পাবেন। হাইকোর্টের রায়ে এটাই সত্যায়িত হল। একাত্তরে নিজে যা প্রত্যক্ষ করেছি, হাইকোর্ট কাগজপত্র-আইন ঘেঁটে সে কথাই বলেছে। কারণ সত্যের পরিবর্তন হয় না। মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে অল্পসংখ্যক লোককে কিছুকালের জন্য অথবা বেশ কিছু লোককে অল্প সময়ের জন্য ধোঁকা দেয়া যায়। কিন্তু সকল মানুষকে সকল সময়ের জন্য বোকা বানানো যায় না। মিথ্যার মেঘ কেটে গেলেই সত্যের সূর্য উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। 90
তন্ময় অগাষ্ট ২০, ২০০৯ @ ৪:১২ পুর্বাহ্ন ১০
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনাঃআসুন আমরা এ নোংরা বিতর্কের চিরাবসান ঘটায় রাজনীতি নিয়ে কোনদিনই আমি সক্রিয়ভাবে মাথা ঘামায় না। স্বার্থান্নেষি স্বভাব, কপটতা আর ভন্ডামির কারনে কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতিও আমার নিরঙ্কুষ সমর্থন নেই। ব্লগের রাজনৈতিক লেখাগুলোও আমি পারতপক্ষে এড়য়ে চলি- কারন বেশিরভাগ লেখায় বিশ্রি একটা দলীয় আনুগত্যের গন্ধ ভুড়ভূড় করে। তারপরও আজ আমি রাজনৈতিক এই লেখাটা লিখছি অনেকটা বিবকের তাড়নায়। ইতিহাস হচ্ছে একটা জাতির শিকড়। আর সেই শিকড়েই যদি পচন ধরে তবে জাতি হিসাবে আমাদের পতন অবশ্যম্ভাবী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ব্লগে অনেক লেখা পড়লাম। জতি হিসাবে এটা আমাদের জন্য লজ্জ্বার যে এর জন্য আমাদের হাইকোর্টের ধারস্ত হতে হয়েছে। ইতিহাসের একটা দিব্য সত্যকে রাজনৈতিক কারনে বিকৃত করার চেষ্টা সত্যিই নিন্দার্হ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষন কে দিয়েছেন তার প্রমান দেশি বিদেশি বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, বই, দলিল এবং সমসাময়িক বিভিন্ন মানুষের জবানীতে পাওয়া যায়। এটা নিয়ে বিরাট একটা লেখা অনায়াসেই লেখা যায়।কিন্তু আমি সংক্ষেপে কিছু উল্ল্যেক করব। সনামধন্য মুক্তবিশ্বকোষ Wikipedia তে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে বলা হচ্ছে- “The independence of Bangladesh was declared by Sheikh Mujibur Rahman through a message on March 26, 1971 just before he got arrested on the night of March 26, 1971 at about 1:30 a.m. (as per Radio Pakistan’s news on March 29, 1971). Declaration of Independence signed by Sheikh Mujibur Rahman was as follows.” Today Bangladesh is a sovereign and independent country. On Thursday night, West Pakistani armed forces suddenly attacked the police barracks at Razarbagh and the EPR headquarters at Pilkhana in Dhaka. Many innocent and unarmed have been killed in Dhaka city and other places of Bangladesh. Violent clashes between E.P.R. and Police on the one hand and the armed forces of Pakistan on the other, are going on. The Bengalis are fighting the enemy with great courage for an independent Bangladesh. May Allah aid us in our fight for freedom. Joy Bangla.” তাঁর ঊপরের স্বাধীনতার ঘোষনাটি তাৎক্ষণিকভাবেই মেসেজ আকারে একটি পোর্টেবল ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সুবেদার মাজ/মোঃ শওকত আলি তাদের পিলখানার বাসস্থানের ইপি আর এর সিগ্নালের মাধ্যমে প্রচার শুরু করেন। মেসেজটি প্রচারিত হওয়া শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং করাচী নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মোঃ শওকত আলি এবং তার সহকর্মী মেসেজটি প্রচারের সময় হাতেনাতে ধৃত হন। পরে তাদের নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়। গত স্বাধীনতা দিবসে অনলাইন প্রত্রিকা “হাজারদুয়ারীতে”আসাদুজ্জামান রুমন লিখেছেন “স্বাধীনতার ঘোষকের কথা বললে সাধারনভাবে যে প্রমান সবাই চোখের সামনে পেতে চায় তা হলো 'দি স্টেটসম্যান' পত্রিকার মার্চ ২৭, ১৯৭১ এর সংখ্যাটি। মি. রহমান-এর উদ্বৃতি দিয়ে প্রকাশ করা ঘোষনাটিকেই ধরা হয় মহান স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষনা। বলাহয় মি. রহমান বলতে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানকেই বুঝিয়েছিলো স্টেটসম্যান। আর তাই মেজর জিয়াউর রহমান হলেন বংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বাস্তবতা ছিলো খানিকটা ভিন্ন। মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম থেকে প্রথম যে ঘোষনাটা পাঠ করেন (বঙ্গবন্ধুর পক্ষে) তার সময় ছিলো ২৭ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট। ২৭ মার্চের সন্ধ্যায় প্রচারিত ঘোষনাটি ২৭ তারিখের পত্রিকায় আসাটা কোনভাবেই যুক্তিসিদ্ধ হয় না। প্রশ্ন থেকে যায়, তাহলে দি স্টেটসম্যান কোন ঘোষনার কথা উল্লেখ করেছিলো, আর মি. রহমান বলতে কাকে বুঝিয়েছিলো? ইতিহাস বিকৃতির স্বীকার অনেকেই মানতে নারাজ যে ২৫শে মার্চের কালো রাতে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানী সামরিক জান্তার হাতে আটক হবার আগেই আলোচনা ভেস্তে গেলে কি পরিস্থিতি হতে পারে তা আঁচ করেছিলেন এবং তাঁর লিখিত দু'টি ঘোষনার পাশাপাশি নিজের কণ্ঠে একটি মেসেজ তৈরী করেছিলেন যা কিনা ২৫শে মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানী সামরিক জান্তার হত্যাজজ্ঞ শুরু হওয়ার পর একটি হ্যান্ডি ট্রান্সমিটারের সাহায্যে প্রচার করা হয়। এই প্রি-রেকর্ডেড মেসেজ এবং হ্যান্ডি ট্রান্সমিটারের বিষয়টি গোঁপন থাকে বঙ্গবন্ধু স্বয়ং এবং তাঁর খুব কাছের কয়েকজন সিনিয়র সহকর্মীর মাঝে। ২৫শে মার্চ রাত ১১:৩০ মিনিটে বলধা গার্ডেন থেকে হ্যান্ডি ট্রান্সমিটারের সাহায্যে 'রেডিও পাকিস্তান ঢাকা'-এর ফ্রিকোয়েন্সীর খুব কছাকাছি ফ্রিকোয়েন্সীতে প্রচার করা হয় প্রি-রেকর্ডেড মেসেজটি, যাতে করে যারা যারা রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্র শুনবে তারা তখন মেসেজটিও শুনতে পাবে, এই ছিলো উদ্দেশ্য। আর সবচেয়ে বড় যে উদ্দেশ্যটি ছিলো তা হলো ঢাকায় অবস্থানরত সকল দেশী-বিদেশী সাংবাদিকদের এবং আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের কাছে মেসেজটি পৌঁছানো। সে উদ্দেশ্য যে সফল হয়েছিলো তার প্রমান ডেভিড লসাকের 'পাকিস্তান ক্রাইসিস' বইটি। এই মেসেজটিই হচ্ছে মহান স্বাধীনতার ঘোষনা যা বাংলাদেশ ডকুমেন্ট হিসেবে ভারতে সংরক্ষিত আছে এবং যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার দলিলে রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আমলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এখানে বলে রাখা ভালো যে, তৎকালীন ডেইলী টেলিগ্রাফের সাংবাদিক লসাক তাঁর বইটি প্রকাশ করেন বিলেত ফিরে গিয়ে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের আগেই। গোটা পৃথিবী যাতে বাংলার মানুষের স্বাধীকার আদায়ের আন্দোলনকে উগ্র-বিচ্ছিণ্ণতাবাদীদের আন্দোলনে রূপ না দিতে পারে সেজন্যই বঙ্গবন্ধু অপেক্ষা করেছিলেন সঠিক সময়ের। সিদ্দিক সালিক তাঁর "হুইটনেস টু স্যারেন্ডার"- এ লিখেছেন যে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর সিনিয়র সহকর্মীর মাঝে গোঁপন বৈঠকের সময়ই নির্ধারিত হয়েছিলো যুদ্ধ বাঁধলে কয়টা সেক্টরে ভাগ হয়ে যুদ্ধ পরিচালিত হবে এবং কে হবেন যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক। ২৫ শে মার্চ রাতে ইয়াহিয়া বাঙালী জাতিকে ব্লাফ দিয়ে পালিয়ে যাবার পরই বঙ্গবন্ধু গোঁপন পরামর্শ মোতাবেক সিনিয়র নেতাদের ভারতে পালিয়ে গিয়ে যুদ্ধ পরিচালনার নির্দেশনা দেন। অত:পর তিনি নায়ীম গওহর ও মোশাররফ হোসেনের মাধ্যমে টেলিফোন বার্তা পাঠান চট্টগ্রামে জহুর আহম্মদ ও এমআর সিদ্দিকের কছে। এর পরপরই বলধা গার্ডেন থেকে বাজানো হয় বঙ্গবন্ধুর "দিস মে বি মাই লাস্ট মেসেজ, ফ্রম টুডে বাঙলা দেশ ইজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট..." এই অবিস্মরণীয় প্রি-রেকর্ডেড মেসেজটি। এই মেসেজটির কথা ইয়াহিয়া খান ২৬ মার্চ বেতার ভাষনে বলেছিলেন এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত শ্বেতপত্রেও উল্লেখ করা হয়। একই ঘোষনার মেসেজ ইপিআর যখন পাঠাতে শুরু করে ততোক্ষণে ২৫ শে মার্চের রাত শেষ হয়ে ২৬ শে মার্চ শুরু হয়ে গিয়েছিলো বলেই আমরা আমাদের স্বাধীনতা দিবস পালন করি ২৬ শে মার্চ। রবার্ট পেইনের ম্যাসাকার অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু তখন আরেকটি যুদ্ধ ঘোষনার মেসেজ ডিকটেট করেন "পাক আর্মি সাডেনলী এট্যাক্ট ইপিআর বেইস এট পিলখানা এন্ড রাজারবাগ পুলিস লাইন, কিলিং সিটিজেন্স..."। ২৬ শে মার্চ দুপুরে প্রথম স্বাধীনবাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয় এম এ হান্নানের ভরাট কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা বার্তা। বেলাল মোহাম্মদের তত্ত্বাবধানে আবুল কাশেম সন্দীপ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষনার উল্লেখ করে সাধারণকে উদ্দীপ্ত করার জন্য বিভিন্ন ধরণের বক্তব্য প্রচার করতে থাকেন। এর মধ্যে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান ফোর্স নিয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধ করতে করতে পিছিয়ে পটিয়া চলে আসেন। তখন তাঁকে অনুরোধ করা হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে পাহারা বসানোর জন্য। মেজর জিয়া সে অনুরোধ সানন্দে গ্রহন করেন এবং ২৭ তারিখ সন্ধ্যায় তিনি বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনে এলে বেলাল মোহাম্মদ তাঁকে অনুরোধ জানান যেন সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে তিনি একটি ঘোষনা দেন। মেজর জিয়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে পরপর দুটি ঘোষনা পাঠ করেন যার দ্বিতীয়টি ছিলো এরকম, "আই, মেজর জিয়াউর রহমান ডু হেয়ারবাই ডিক্লেয়ার দ্যা ইনডিপেন্ডেস অফ বাংলাদেশ অন বিহাফ অফ আওয়ার গ্রেট ন্যাশনাল লীডার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান...", বেলাল মোহাম্মদের "স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র" বইতে উল্লেখ আছে তা। একথা ঠিক যে মেজর জিয়াউর রহমানের ঘোষনা সবচাইতে বেশী মানুষ শুনেছে এবং বঙ্গবন্ধুর ডাকে পলিটিশিয়ানদের সাথে সেনাবাহিনীও যোগ দিয়েছে যুদ্ধে- এই ঘোষনায় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তুমুল জাগরণ তৈরী হয়। পক্ষান্তরে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনার মেসেজ পাঠানো হয় বঙ্গবন্ধুর প্রি-রেকর্ডেড সেই মেসেজটির মাধ্যমে। আর মাস পিপোলের কাছেই যদি মেসেজ পৌঁছানোর কথা বলি, তাহলে ৭-ই মার্চের সেই অবিস্মরণীয় ভাষনের কথা বলতে হয়।“ সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত CIA (USA) রিপোর্টেও পরিষ্কারভাবে উল্ল্যেখ আছে যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক। এমন কি অনেক পাক অফিসারও বঙ্গবন্ধুর স্বাধিনতার এই ঘোষনা বি ডি আর অয়্যারলেসের মাধম্যে শুনতে পান। (Ref. "Witness to Surrender" by Pakistani Army officer Major Siddik Salek). ২৬শে মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর কতৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতার এই ঘোষনা ১৫ খন্ডের স্বাধীনতার দলিলপত্র "Documents on the war of Independence."এর ৩নং খন্ডের শুরুতে লিপিবদ্ধ হয়েছিল। এটি প্রথম শহীদ জিয়ার আমলেই ১৯৮২ সালে বিষিষ্ট কবি-সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমান এর সম্পাদনায় এবং একটি বিশেষ প্রত্তয়ন কমিটির তত্তবধানে প্রকাশিত হয়। শহীদ জিয়া নিজেকে কখনো স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে দাবী করেন নি। এমন কি তার জীবদ্দশায় তার সামনে কেঊ এ দাবী তুলতে সাহস পান নি। তাই তিনি তার নিজের শাষন আমলেই প্রকাশিত ১৫ খন্ডের স্বাধীনতার দলিলপত্রে শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে সীকৃতি দিয়ে যান। ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষনা বিচ্ছিন্ন ভাবে হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা নয়। এটি দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে চলে আসা বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের অবশ্যম্ভাবী ফল। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারীর ঘটনায় যে চেতনাবোধের জন্ম হয়েছিল সেই চেতনার হাত ধরেই এর আগমন। ২৬শে মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর কতৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতার এই ঘোষনা ১৫ খন্ডের স্বাধীনতার দলিলপত্র "Documents on the war of Independence."এর ৩নং খন্ডের শুরুতে লিপিবদ্ধ হয়েছিল। এটি প্রথম শহীদ জিয়ার আমলেই ১৯৮২ সালে বিষিষ্ট কবি-সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমান এর সম্পাদনায় এবং একটি বিশেষ প্রত্তয়ন কমিটির তত্তবধানে প্রকাশিত হয়। শহীদ জিয়া নিজেকে কখনো স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে দাবী করেন নি। এমন কি তার জীবদ্দশায় তার সামনে কেঊ এ দাবী তুলতে সাহস পান নি। তাই তিনি তার নিজের শাষন আমলেই প্রকাশিত ১৫ খন্ডের স্বাধীনতার দলিলপত্রে শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে সীকৃতি দিয়ে যান। ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষনা বিচ্ছিন্ন ভাবে হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা নয়। এটি দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে চলে আসা বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের অবশ্যম্ভাবী ফল। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারীর ঘটনায় যে চেতনাবোধের জন্ম হয়েছিল সেই চেতনার হাত ধরেই এর আগমন। “…In the night of March 25, 1971, he (Mujib) formally declared the independence of Bangladesh. This declaration was later broadcast all over the country via wireless. In the morning of March 26, 1971, I got this message at Mymensingh Agricultural University (BAU). The then Vice Chancellor of BAU, Kazi Fazlur Rahman called all the teachers, showed them Mujib’s declaration message and said: “This message came via the Mymensingh Police Line and Mr Rafiq Bhuiyan, the leader of Mymensingh Awami League, personally brought this message to me”. Immediately after the VC’s announcement, a meeting was held where Mr Bhuiyan read out the declaration of independence and recounted the dreadful military crack down in Dhaka city the previous night…” …Shamsuz Zaman Khan …“Soon after darkness fell on March 25, the voice of Sheikh Mujibur Rahman came faintly through a wavelength close to that of the official Pakistan Radio. In what must have been, and sounded like, a pre-recorded message, the Sheikh proclaimed East Pakistan to be the People’s Republic of Bangla Desh. He called on Bengalis to go underground, to reorganise and to attack the ‘invaders’…” …David Loshak, Pakistan Crisis বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ জিয়া এক অবিস্মরণীয় নাম। মুক্তি্যুদ্ধে তাঁর অবদানের জন্য জাতি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি বাংলাদেশের সম্মাণিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি দূর্ণীতি করেন নি, সজনপ্রীতি করেন নি। এসব কারনেও জাতি তাকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে। একটা বিকৃত ইতিহাসের মাধ্যমে তাকে সম্মাণিত করটা পক্ষান্তরে তার স্মৃতির প্রতি অবমাননা করা। ইতিহাস বড় নির্মম। সে কারো ধার ধারে না; কারো রক্তচক্ষুকে সে পরোয়া করে না – আবেগের ছিটেফোটা মূল্যও নেই তার কাছে। পর্যালোচনা করা, সমালোচনা করা, মুল্যায়ন করা ইতিহাসের কাজ না - ইতিহাসের কাজ হল ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা। ইতিহাস সহস্র প্রতিবন্ধকতার মাঝেও আপন গতিতে তার কাজ করে চলে। তার গতির সামনে ইতিহাস বিকৃতিকারীদের জমানো জঞ্জাল খড়কুটার মতই ভেসে যায়। সে সত্য আজ আবারও প্রামাণিত হল। বিকৃতির মাধ্যমে ইতিহাসের যজ্ঞানল জ্বালানো যায় না; জ্বালানো যায় নিজেদের খুব ছোট ছোট চিতানল। আর সেই সব ছোট ছোট চিতানলের আগুনে একটা জাতির ললাটে আঁকা হয় কলঙ্ক তিলক -যেমন আমাদের কপালে হয়েছে। প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা বলেছেন, “সত্য বর্জন করা সহজ; কিন্তু সেই বর্জিত সত্যকে পূণর্গ্রহণ করা সহজ নয়”। কিছু তথাকথিত স্বার্থান্নেষি, মোসাহেব, পদলেহী(এর চেয়েও অনেক খারাপ কমপ্লিমেন্ট দেওয়া যায়, এর চেয়ে ভাল দেওয়া যায় না) বুদ্ধিজীবি, ইতিহাসবিদ আর রাজনীতিবিদ সত্যকে বর্জন করে ইতিহাস বিকৃত করার সে সহজ কাজটা করেছেন। এখন তাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ সেই বর্জিত সত্যকে পূণর্গ্রহণ করার কঠিন কর্মসাধনের। দায়টা যতটা না আমদের তারচেয়ে অনেকবেশি তাদের নিজদের। তা নাহলে যে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়েও তাদের জায়গা হবে না। রেফারেন্স: The Sheikh Mujib Declaration of Independence of Bangladesh:U.S. Government RecordsandMedia Documentationt স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে ক্যাচাল, একটি প্রামাণ্য উপস্থাপনা Swadhin Bangla Betar Kendro and Bangladesh’s Declaration of Independence Swadhin Bangla Betar Kendro and Bangladesh's Declaration of Independence - Mashuqur Rahman and Mahbubur Rahman Jalal present new research Who declared the independence of bangladesh? Bangabandhu’s Declaration of Independence By Bahzad Ahmed Bangladeshi Declaration of Independence From Wikipedia, the free encyclopedia *পাকিস্তান ক্রাইসিস - ডেভিড লসাক *হুইটনেস টু স্যারেন্ডার - সিদ্দিক সালিক *আমেরিকান স্লট রিপোর্ট *পাকিস্তান সরকারের শ্বেতপত্র *ম্যাসাকার - রবার্ট পেইন *স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র - বেলাল মোহাম্মদ 100
স্বপ্ন বালক অগাষ্ট ২০, ২০০৯ @ ৫:২৪ পুর্বাহ্ন ১২
তন্ময় ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১০ @ ২:০৭ পুর্বাহ্ন ১৩
জিয়াকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ হিসাবে মুদ্রিত সব বই বাজেয়াপ্তের নির্দেশ হাইকোর্টের রায় ০ দিদারুল আলম ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এটা আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ২০০৪ সালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এই ইতিহাস বিকৃত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রের তৃতীয় খণ্ডের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে উল্লেখ করা হয়। এই পুনঃমুদ্রণ সংক্রান্ত উক্ত দলিলপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত এই বর্ণনা সংবিধান ও আইন পরিপন্থি হিসাবে উল্লেখ করেছে হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, প্রকাশিত এ ধরনের দলিলপত্র সংবিধান পরিপন্থি এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সুতরাং এটা বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হলো। এছাড়া ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ অষ্টম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ব্যাটালিয়ন অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রের তৃতীয় খণ্ডসহ এইরূপ বক্তব্য যে সকল পুস্তক ও পুস্তিকায় এবং গ্রন্থে মুদ্রিত ও বিবৃত হয়েছে তা অবিলম্বে বাজেয়াপ্তের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও বিচারপতি মোঃ মমতাজউদ্দিন আহমেদের দেয়া এই যুগান্তকারী রায়ের সার্টিফায়েড কপি গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। ৩৫০ পৃষ্ঠার লিখিত হাইকোর্টের রায়ে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বপ্রকার ইতিহাস বিকৃতি দূর করে সঠিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ২০০৪ সালে জোট সরকারের আমলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও দলিলপত্র পুনঃমুদ্রিত করে। যেখানে উক্ত দলিলপত্রের ৩য় খণ্ডের ১ম পৃষ্ঠায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন মর্মে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। ২০০৪ সালে গঠিত প্রত্যয়ন কমিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রে উক্ত ভুল তথ্য সন্নিবেশিত করে। উক্ত প্রকাশনাকে চ্যালেঞ্জ করে গত ২০ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। পরে হাইকোর্ট রিট আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করে সরকারের প্রতি রুল জারি করে। মুক্তিযোদ্ধা ডা. এম এ সালাম বাদি হয়ে এই রিট দায়ের করেন। উক্ত রিট মামলার রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি গ্রহণ করে হাইকোর্ট রায় প্রদান করে ২০০৯ সালের ২১ জুন। প্রায় ৭ মাস পর গতকাল হাইকোর্টের রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়া গেছে। বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও বিচারপতি মো: মমতাজউদ্দিন আহমেদ রায়ের কপিতে স্বাক্ষর করেছেন। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গঠিত প্রত্যয়ন কমিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রের তৃতীয় খণ্ডের প্রথম পৃষ্ঠায় জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উল্লেখ করে দেয়া তথ্য অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক, যা প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। হাইকোর্ট উল্লেখিত গ্রন্থের সংশ্লিষ্ট অংশকে বেআইনি, অবৈধ ও বাতিল ঘোষণার পাশাপাশি তা বিক্রি, বিতরণ, মুদ্রণ ও প্রকাশনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এছাড়া দেশে ও বিদেশে যেখানেই এই গ্রন্থ রয়েছে তা প্রত্যাহার করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, প্রত্যয়ন কমিটির স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত অসত্য তথ্য সংযোজন করে জনগণকে ধোঁকা দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সহিত বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই ইতিহাস বিকৃতির ফলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রকৃত ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এইরূপ বিকৃত ইতিহাস প্রকাশ করে ১৪ কোটি বাঙ্গালির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়, স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস প্রতিটি জাতির অমূল্য সম্পদ। এই ইতিহাস জানার অধিকার প্রতিটি বাঙ্গালির রয়েছে। কিন্তু প্রত্যয়ন কমিটি ইচ্ছাকৃতভাবে এই স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত ইতিহাস বিকৃত করে দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড করেছে। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাত থেকে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহর পর্যন্ত বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে পৌঁছে গিয়েছিল। এই ঘোষণা সংবিধানের প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা পরে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে অমরতা প্রদান করা হয়েছে। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ বছর ধরে বাঙ্গালির স্বাধীনতা অর্জনের জন্য দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়েছেন। এই সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তিনি জীবনের এক তৃতীয়াংশ সময় কারাবন্দি থেকেছেন। ১৯৬৬ সালে মুক্তির সনদ ছয় দফার মত বিপ্লবী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বাঙ্গালি জাতির চিন্তা-চেতনাকে সার্থকভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছিলেন বলেই তিনি বাঙ্গালি জাতির গর্ব, তিনি জাতির পিতা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন। বন্দি অবস্থায় প্রতিমুহূর্তে তার জীবনাশংকা ছিল। কিন্তু সেই বাঙ্গালি জাতি আত্মমর্যাদা ও সাহসের সঙ্গে ‘জয়বাংলা’ শ্লোগান তুলে অবিসংবাদিত সিপাহসালার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে যুদ্ধ করে লক্ষ লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি ছিলেন তাদের একমাত্র নেতা। তিনি ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রত্যয়ন কমিটি যাকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য সচেষ্ট ছিলেন, সেই জিয়াউর রহমান তার নিজের লিখিত প্রতিবেদনের কোথাও নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে দাবি করেননি। বরং শেখ মুজিবুর রহমানকে সম্মানের সঙ্গে জাতির পিতা হিসাবে সম্বোধন করেছেন। এতে জিয়াউর রহমানের সততাই প্রকাশ পায়। তিনি নিজেই স্বীকার করেন যে, ৭ মার্চের ভাষণ একটি গ্রিন সিগন্যাল ছিল। এই প্রবন্ধ পড়লে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে, জিয়াউর রহমান শুধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতাই মনে করেননি, তার নেতৃত্ব সর্বোতভাবে মেনে নিয়েছিলেন
ঋণগ্রস্থ ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১০ @ ২:১৭ পুর্বাহ্ন ১৪
আর যে ঘোষনা সবাই জিয়ার মুখ থেকে শুনেছে তাতে লেখার কি ছিল? সেটা যে তাৎক্ষনিক ছিল তা যে কোন অবোধ শিশুও বুঝবে। আর এইটা নিয়ে রাজনিতী করা ফালতু একটা ব্যাপার। দেশে কি আর ইস্যু নাই!!
তন্ময় ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১০ @ ২:৪৯ পুর্বাহ্ন ১৪.১
আওয়ামীলিগ নেতা হান্নান সাহেবেন নাম বাদ দিলেন কেন? ঠিক কোন পয়েন্টের কথা বলছেন? জিয়া ঘোষনা দিয়েছেন ২৭শে মার্চ এইটা অস্বীকার কে করছে? তবে এই ২৭ তারিখ টা ঠেলে ২৬ নিয়ে আসার চেস্টাই হল 'রাজনীতি'
14.10
আদিল মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১০ @ ২:২১ পুর্বাহ্ন ১৫
এখানে ক্লিক করুন। মীর শওকত ২৫ শে মার্চ রাত থেকে ৩০ শে মার্চ জিয়ার সাথেই ছিলেন। তিনি কোন জিন্দেগীতেও আওয়ামী কোন ধারার সাথে সংযুক্ত ছিলেন না। এ ছাড়া কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের কর্মী আব্দুশ শুক্কুর যার পাশে বসে জিয়া ২৭ তারিখ ঘোষনা পাঠ করেন তার সাক্ষাতকারও আছে।
তন্ময় ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১০ @ ২:৫১ পুর্বাহ্ন ১৫.১
ধন্যবাদ। সদালাপে এই প্রসংঙ্গে আপনার, ফয়সাল আর আমার সাথে মোস্তফা কামালের ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল, আপনার মনে আছে বোধহয়।
আদিল মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১০ @ ৩:০০ পুর্বাহ্ন ১৫.১.১
ফয়সল সাহেবের কথা মনে আছে। আপনার নাম ওখানে কি ছিল? প্রতিপক্ষ সম্পর্কে মন্তব্য করা উচিত নয়, তবে কামাল সাহেব কোন রকম যুক্তি তর্ক রেফারেন্সের ধার না ধেরে গায়ের জোরে তর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
তন্ময় ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১০ @ ৪:২৩ পুর্বাহ্ন ১৫.১.১.১
অন্য একটা কিছু করতে গিয়ে আপনার ও আমার একটি করে কমেন্ট মুছে গেল। দু:খিত।
আদিল মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১০ @ ৪:৪০ পুর্বাহ্ন ১৫.১.১.১.১
ব্যাপার না। এই বিষয়ে কাল আমি আরেকটা ডকুমেন্ট (কালুরঘাট বেতার কর্মী আব্দুশ শুক্কুরের ভাষ্য) স্ক্যান করে আপলোড করব।
তন্ময় ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১০ @ ৭:৫৭ অপরাহ্ন ১৫.১.১.১.১.১
আপলোড শেষ হলে এখানে লিংক দিয়েন প্লিজ।
আদিল মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১০ @ ৭:০২ অপরাহ্ন ১৫.১.১.১.১.১.১
এহ হে, ভুলেই গেছিলাম, স্যরি। আপলোড করতেই পারিনি।
15.1.1.1.1.1.10
আদিল মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১০ @ ৭:১৫ অপরাহ্ন ১৫.১.২
এখানে দেখুন। আব্দুশ শুক্কুর ছিলেন ২৬ শে মার্চ থেকে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র চালু রাখার দায়িত্বে। তার পাশে বসেই ২৭ শে মার্চ জিয়া ঘোষনা পাঠ করেন। জিয়া ২৬ শে মার্চ ঘোষনা দিলে শুক্কুর সাহেবের কাছে কিভাবে তা অজানা থাকে? এই সাক্ষাতকার সাপ্তাহিক ২০০০ এ বেরিয়েছিল, অনলাইনে অই সংখ্যা এখন আর পাচ্ছি না। ভাগ্যিশ সেভ করে রেখেছিলাম।
15.1.20
তন্ময় ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১০ @ ৮:০৮ অপরাহ্ন ১৬
দারুন একটা কাজ করলেন। অনেক ধন্যবাদ ভাই। এই সাক্ষাৎকারটা আমার কাছে একেবারেই নতুন। আমি মূল পোস্টে লিংক আর এখানে সেটা এমবেড করে দিচ্ছি। Shadhinota_Abdush_Shukkur
আদিল মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১০ @ ৮:৫৭ অপরাহ্ন ১৬.১
ধণ্যবাদ। অবশ্য যারা কূটতর্ক বাধাবার তারা এমনিতেই বাধাবে, যতই বলেন লাভ নেই। তাতে অবশ্য ইতিহাসের কিছু যায় আসে না। যা সত্য তাই প্রতিষ্ঠিত হবে। মূল পোষ্টে মীর শওকতের স্বাক্ষাতকারও লিঙ্ক করতে পারেন। যারা কিছু না পড়ে বুঝেই সব আওয়ামী বুদ্বিজীবিদের ষড়যন্ত্র বলে চেচায় তাদের গালে চড় পড়া খুবই দরকার। মীর শওকত স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে জিয়া ২৭ তারিখেই ঘোষনা পাঠ করেন, ২৬ নয়। হান্নান সাহেবকেই প্রথম ঘোষনা পাঠক হিসেবে তিনি স্বীকৃতি দিয়েছেন। আরেকটি ৭২ সালের অবজারভার এর লিঙ্ক পেয়েছিলাম যাতে আছে কি ভাবে ততকালীন ওয়াপদার ইঞ্জিনিয়ার আশিক পিক আপে করে বেতার কর্মীদের কালুরঘাটে এনেছিলেন, এখন খুজে পাচ্ছি না। ওটা সদালাপে বিতর্কের সময় কামাল সাহেবকে দেখিয়েছিলাম। ওটা খুজে পেলে জানাবো। এ বিষয় নিয়ে যে এত তর্ক হতে পারে এটাই অবিশ্বাস্য। অবশ্য ফ্যানাটিসিজমের হাত দিয়ে যে দলের উত্থান সে দলের সমর্থকরাও একই ধারায় বিশ্বাসী হবেন এটাই স্বাভাবিক।
তন্ময় ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১০ @ ৯:২১ অপরাহ্ন ১৬.১.১
আরেকটি ৭২ সালের অবজারভার এর লিঙ্ক পেয়েছিলাম যাতে আছে কি ভাবে ততকালীন ওয়াপদার ইঞ্জিনিয়ার আশিক পিক আপে করে বেতার কর্মীদের কালুরঘাটে এনেছিলেন, এখন খুজে পাচ্ছি না। ওটা সদালাপে বিতর্কের সময় কামাল সাহেবকে দেখিয়েছিলাম। ওটা খুজে পেলে জানাবো। পোস্টে সেটিও দিয়ে দিলাম। জ. Swadhin Bangla Betar Kendro - The story of March 26,1971- By M. A. Yusuf Bangladesh Observer_April 23_1972 এ বিষয় নিয়ে যে এত তর্ক হতে পারে এটাই অবিশ্বাস্য। অবশ্য ফ্যানাটিসিজমের হাত দিয়ে যে দলের উত্থান সে দলের সমর্থকরাও একই ধারায় বিশ্বাসী হবেন এটাই স্বাভাবিক। আপনি নিজেই উত্তর দিয়ে দিয়েছেন।
আদিল মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১০ @ ১১:৪৫ অপরাহ্ন ১৬.১.১.১
ধন্যবাদ। এই লিঙ্কটির গুরুত্বও কিন্তু অসীম। এতে ষ্পষ্টতই বোঝা যায় যে বংগবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষিত টেলিগ্রাম ২৬ তারিখ সকালে চট্টগ্রামে পৌছায়। এর ভিত্তীতেই কালুরঘাট বেতার থেকে ২৬ তারিখ দুপুর থেকেই স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ শুরু হয়। আবুল কাশেম সন্দীপ, ইঞ্জিনিয়ার আশিক, হান্নান এরা সবাই আসলে ২৬ তারিখ ঘোষনা পাঠ করেন। বংবন্ধুর এই ঘোষনা শুধু চট্রগ্রামেই নয়, দেশের সব থানার অয়ার্লেসেই গিয়েছিল। আরো অনেকের কথায়ই এর প্রমান পাওয়া যায়। জিয়া ২৭ তারিখ কি পরিস্থিতিতে বেতার কেন্দ্রে এসেছিলেন তাও এতে প্রমান হয়। বংগবন্ধু ২৫ তারিখ মাঝরাতে কি ভাবে স্বাধীনতা ঘোষনা করলেন এ নিয়েও অনেকনে কূটতর্ক বাধান। এ সম্পর্কে সাপ্তাহিক ২০০০ এ ততকালীন পিলখানার ইপিআর সিগ্নাল ইউনিটের সুবেদার শওকতের উপর একটি ফিচার ছাপা হয়েছিল। দূঃখজনভাবে ওটা সেভ করে রাখিনি। দেখি তাদেরকে মেল করে, যদি পাওয়া যায়। সেই প্রবন্ধে সুবেদার শওকতের মেয়ে যিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা স্বাক্ষ্য দিয়েছেন যে তার বাবা ২৫ তারিখ দিবাগত রাতে বংগবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষনা অয়ার্লেসে পাঠরত অবস্থায় পাক বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। তারপর তাকে অবর্ননীয় নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়। যুদ্ধের পর শওকতের স্ত্রী অত্যন্ত কষ্ট করে এতিম ছেলে মেয়ে মানুষ করে, কোনদিন স্বামীর পরিচয় ভাংগিয়ে কোন সুবিধে নেননি। এরা কি কারনে মিথ্যা কথা বলবেন? ? বংগবন্ধুর এই বেতার ঘোষনা সে রাতে ডেইলী টেলিগ্রাফের সাংবাদিক ডেভিড লোশাক শুনেছিলেন এবং তা তার "পাকিস্তান ক্রাইসিস" বইতে বর্ননা করেন। এই বইটি যুদ্ধ শেষ হবার আগেই প্রকাশিত হয়।
তন্ময় ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১০ @ ১১:৫১ অপরাহ্ন ১৬.১.১.১.১
দারুন সংযুক্তি।
16.1.1.1.10
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১০ @ ৮:৪৩ অপরাহ্ন ১৭
তন্ময় ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১০ @ ৯:০২ অপরাহ্ন ১৭.১
জিয়া ভাই মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। এই এক বিষয় নিয়ে সদালাপে মোস্তফা কামাল সাহেব, এছাড়া আরও নানা জায়গায় (এই খানে এহহামিদা) নানা লোকের সাথে একাধিক বার আলোচনা করতে হয়েছে। শেষে চিন্তা করলাম এক জায়গায় সব লিংক থাকলে বারবার আমাকে একই কথা বলতে হবে না। তাই এই পোস্টের অবতারনা করেছিলাম গতবছর। অফটপিক: ভাবী আর ভাইস্তারা ভালো আছেন আশা করি। তবে আমি ঠিক মনে করতে পারছি না আপনি আমাকে কবে থেকে 'আপনি' বলা শুরু করলেন? লইজ্জা পাইলাম
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১০ @ ৯:০৭ অপরাহ্ন ১৭.১.১
সবাই ভাল। পোস্টটা খুবই দরকারী হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ধন্যবাদ।
তন্ময় ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১০ @ ৯:১৬ অপরাহ্ন ১৭.১.১.১
ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
17.1.1.10
তন্ময় ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১০ @ ৫:৩৭ অপরাহ্ন ১৮
আপনাকে সরাসরি একটা কথা বলি। আমাদের পূর্বপুরুষদের অনেক যুগের ত্যাগ, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং পরিশেষে ১৯৭১ এর গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের দেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে। কেউ দয়া করে এই লাল সবুজের পতাকা আমাদের দিয়ে যায় নাই। এই যুদ্ধে ৩০ লক্ষ লোক শাহাদাত বরন করেছেন, নানা ভাবে নির্যাতিত হয়েছেন আমার নিজের পরিবারসহ তৎকালীন ৭ কোটি মানুষের বেশীরভাগ। সেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোন ধরনের ফাজলামো করার জায়গা আমার এই ব্লগ না। বিভ্রান্তকারী এই এক গালগল্প (কমেন্ট) আরো কয়েক জায়গায় করেছেন। আপনাকে ২৪ ঘন্টার সময় দিচ্ছি, বিশ্বাসযোগ্য সূত্র উল্লেখ করেন, যেমনটা মূল পোস্টে উল্লেখ আছে। নইলে আপনার এই কমেন্ট মুছে যাবে। (বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের ব্যপারে: নয়াদিগন্ত, আমার দেশ, সংগ্রাম, সোনার বাংলাদেশ ইত্যাদি জামাতি টয়লেট টিস্যুর কথা বলে লাভ নাই)
আদিল মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১০ @ ৬:৩৪ অপরাহ্ন ১৮.১
এতদিনে আসল কথাই তো বলা হয়নি। আমি ২৫ শে মার্চ মাঝরাতে মুজিবের ঘোষনার ভিডীও দেখেছিলাম, তবে, উহু, সূত্র কিন্তু দিতে পারছি না। কারন দিলে বিএনপি ভাইরাসেরা সে সূত্র নষ্ট করে দেবে। - আমার যুক্তি দারুন শোনায় না??? এহেন যুক্তির উপর কি আর কথা চলে? গত সরকারের আমলে তো আমরা সবাই দেখেছি তাদের কালো হাত। ইতিহাস বিকৃতি এতই নির্লজ্জ হয়েছিল যে তাদের বানানো কমিটি থেকেই বিবেকের তাড়নায় দুজন পদত্যাগ করেন। নাকি এই পদত্যাগেও আওয়ামী ভাইরাস ভারতীয় ষড়যন্ত্র আছে? মমতাজউদ্দিন, বেলাল মোহাম্মদ এরা আল্লাহর রহমতে এখনো বেচে আছেন। তাদের ভাষ্য কেউ পড়ে দেখলেই তো হয়। যাদের এরপরেও সন্দেহ হয় তারা বেলাল মোহাম্মদের " স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র" অনুপম প্রকাশনী হতে প্রকাশিত পড়ে দেখতে পারে। তারা বহুবার বহু যায়গায় বলেছেন কিভাবে স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ হয়। বেলাল মোহাম্মদ পরিষ্কার বলেছেন যে ২৬ তারিখ সকালের তার হাতে বংগবন্ধুর ঘোষনার টেলিগ্রাম কপি আসে, এবং তিনি জিয়াকে ২৭ তারিখ ডেকে আনেন। আবুল কাশেম সন্দ্বীপের বক্তব্যও অনেক আগে পড়েছি। ২৬শে মার্চ কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র গঠনে জিয়া বা কোন সেনা অফিসারেরই কোন ভূমিকা ছিল না। ২৬ শে মার্চ বেতার কর্মীড়া নিরাপত্তা সমস্যায় ভুগছিলেন দেখেই ২৭ শে মার্চ জিয়াকে পটীয়া থেকে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র পাহারা দিতে ডেকে নিয়ে আসেন বেলাল মোহাম্মদ ও ইঞ্জিনিয়ার আশিক; তা সেসময়কার উপস্থিত বহুজনের স্বাক্ষ্যে পাওয়া যায়। আব্দুশ শুক্কুরের স্বাক্ষ্য পাওয়া যায়, ৭২ সালের অবজার্ভারেও একই কথাই দেখা যায়। আরেকটা ব্যাপার দেখি এখন বাজারে চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। জিয়াই নাকি প্রতিভিশনাল সরকারের প্রধান হিসেবে মুজিবনগর সরকার গঠন পর্যন্ত ২ সপ্তাহ দেশের প্রধান ছিলেন। কি হাস্যকর কথাবার্তা। এটা সত্য যে জিয়া প্রথমে নিজেকে দেশের প্রধান হিসেবে ঘোষনা দিয়ে দেন, সে সময়কার অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দোষও দেওয়া যায় না। তবে পাশে থাকা বেলাল মোহাম্মদ, সন্দ্বীপ এরা তার ভুল ধরিয়ে দিলে তিনিও তা বুঝতে পারেন; কারন মুজিবের নাম ছাড়া স্বাধীনতা ঘোষনার তেমন মূল্য নেই। ততক্ষনাত তিনি নিজেই আগের ঘোষনা সংশোধন করে মুজিবের নেতৃত্বেই ঘোষনা দেন। তার এই দ্বিতীয় ভাষনই সমগ্র দেশের মানূষ জানে, আন্তর্জাতিক মিডীয়াতেও এটাই রেকর্ড হয়। এর মাঝে কোন রাজনীতির খেলা বা চাপের ব্যাপার ছিল না। এই ঘোষনাই বার বার প্রচার করা হতে থাকে। প্রথমটি নয়। এখন কোন ঘোষনা গ্রহনযোগ্য বলে মনে হয়? পরিষ্কারভাবে জিয়া নিজেই তার নিজেকে দেশের অস্থায়ী প্রধান হিসেবে করা প্রথম ঘোষনা সংশোধন করে নুতন ঘোষনা দিয়ে আগেরট বাতিল করেছেন। নিজেই বংগবন্ধুকেই অবিসংবাদিত নেতা মেনেই যুদ্ধ ঘোষনা করেছিলেন। কাজেই তিনি মুজিব নগর সরকার গঠন পর্যন্ত দেশের প্রধান ছিলেন এহেন উদ্ভট চিন্তা কি করে ভাবা যায়? এখন বলা হবে তাকে অস্ত্রের মুখ, ভারতীয় র এর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ঘোষনা দিতে বাধ্য করা হয়। যেমনি করে বাধ্য করা হয় ২৬ শে মার্চের ঘোষনার কথা বিলকুল ভুলে গিয়ে নিজ মুখে ২৭ শে মার্চের কথাই সাক্ষাতকারে বলতে? যত্তসব পাগল ছাগনের কারবার।
তন্ময় ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১০ @ ৭:০৭ অপরাহ্ন ১৮.১.১
যারা সত্যিই জানেন না অথবা কনফিউসনে আছেন আপনি তাদের জানাতে পারেন। কিন্তু যারা জেগে ঘুমায় তাদের জাগানোর চেস্টা করার কি প্রয়োজন আছে? এরা আগে ঠিক করে নেয় ফলাফল তারপর উপায় খোজে সেই ফলাফলে পৌছানোর। সামনে যতই বাস্তব তথ্য প্রমান আসুক না কেন, তারা সেগুলো ইগনোর করে যাবে। আপনি প্রমান দেন তারা চুপ করে যাবে, তারপর আবার কয়েকদিন পর আবার আগের গান শুরু করবে, আপনি আবার প্রমান দেন তারা হাওয়া হয়ে যাবে, কয়েকদিন পর আবার আসবে....এই চক্রের শেষ নাই। সদালাপ বলেন আর আমারব্লগ... সবখানেই তাদের চরিত্র মোটামুটি একই। কিন্তু মিথ্যাকে সত্য বলে চালাতে চাইলেই তো তা সত্য হয়ে যায় না।
আদিল মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১০ @ ৭:২২ অপরাহ্ন ১৮.১.১.১
কথা সত্য। তবে এই পদ্ধুতি ব্লগে কিছু সময় গালিগালাজ আর চাপাবাজি করা ছাড়া তেমন কাজে আসবে না। এককালে শুধু নয়াদিগন্ত, সংগ্রাম এগুলিতেই সীমাবদ্ধ ছিল, এখন ব্লগগুলিও যুক্ত হয়েছে, এই যা লাভ। মুশকিল হল এইও সোজা কথা এই নব্য স্বঘোষিত ইতিহাসবিদ আতেলেকচুয়ালরা বুঝতে পারেন না। হ্যা, মার্চ মাস আসছে, আবারো এনারা বীর বীক্রমে শুরু করে দেবেন মনগড়া ইতিহাস চর্চা। রেফারেন্স আছে কিন্তু দেব না মার্কা উন্মাদীয় যুক্তি। কাট পেষ্ট করে দিলেও যেটুকু দাবীর স্বপক্ষে যেতে পারে সেটুকু দেব, আসল যায়গা কায়দা করে ডট মেরে যাব। কাল আরেকজন আরেক মহাকাব্য লিখেহিলেন তো দেখেছেন। প্রথমে দেখলে মনে হয়, উরে বাপরে, মেরে দিয়েছেন। খোদ তাজউদ্দিনের রেফারেন্স! মজার ব্যাপার হল, সেই তাজউদ্দিনের রেফারেন্সে ওনার কাছে খুব বড় মনে হয়েছে জিয়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র গঠন করেছেন এই পার্ট টা, কিন্তু একই ঘোষনায় তাজউদ্দিন যখন বলেছেন যে মুজিব ২৬শে মার্চেই স্বাধীনতা ঘোষনা করেছেন সেই অংশ সেই ইতিহাসবিদের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। এদের কি বলবেন? এদের সাথে তর্ক করা সময়ের অপচয়। তবে মানূষকে যেন বিভ্রান্ত করতে না পারে তা দেখতে হবে, এরজন্যই তর্ক চালানো।
তন্ময় ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১০ @ ১২:১৬ পুর্বাহ্ন ১৮.১.১.১.১
বাংলা ব্লগের ইতিহাস খুব বেশী দিনের নয়। এই কয়েক বছরে যা লক্ষ্য করেছি তা হল বিশেষ কয়েকটা দিনে ব্লগের ছাগুনিকগুলো খুবই তৎপর হয়ে উঠে। এই দিনগুলো নিয়ে তাদের বক্তব্য মোটামুটি এইরকম-- - ৩০শে জানুয়ারী: আওয়ামী লীগের লোকজন জহির রায়হানকে মেরে ফেলেছিল এইদিন। - ৭ই মার্চ: এইদিন শেখ মুজিব তার ভাষনে জয় বাংলার পর জয় পাকিস্তান বলেছিলেন। - ২৬ শে মার্চ - শেখ মুজিব বেঈমানি করে পাকিস্তানীদের সাথে ধরা দেন। আওয়ামী লিগের সব নেতা পালিয়ে যাওয়ায় জিয়া হঠাৎ করে স্বাধীনতা ঘোষনা দেন। - ১৫ই আগস্ট - জামাত শিবির গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষা দিবস পালন করছে এই দিনে। খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সাল থেকে তার জন্মদিন ১৫ই আগস্টে পালন করে আসছেন। - ১৬ ডিসেম্বর : কোন কোন ব্লগ এই মহান দিবসে বাংলাব্লগ দিবস পালনের প্রস্তুতি নিয়েছিল যাতে বিজয় দিবসের আনন্দ সময়ের পরিক্রমায় চাপা পড়ে যায়। যেমন ভ্যালেন্টিন দিবসের ডামাডোলে (১৪ ফেব্রুয়ারী) এখন কয়জন মনে করে ১৯৮৩ সালের এই দিনে প্রান দিয়েছিলেন দীপালি সাহা, কাঞ্চন,জাফর ,জয়নাল সহ আরও কত নাম না জানা মানুষ। ~~~~~~~ এদেরকে (রাজাকার মানসিকতাধারীদের) অনেকবার বুঝানোর চেস্টা করা হয়েছে। কিন্তু জেগে ঘুমালে জাগাবেন কিভাবে?
18.1.1.1.10
বেলের কাঁটা মার্চ ২৮, ২০১০ @ ৩:০২ অপরাহ্ন ১৮.১.২
আমি ২৫ শে মার্চ মাঝরাতে মুজিবের ঘোষনার ভিডীও দেখেছিলাম, আপনি সংগ্রহ করে তারপর দেন। এই রকম দাঁতভাংগা জবাব দেয়ার এখনই সময়
তন্ময় মার্চ ২৮, ২০১০ @ ৫:৪৩ অপরাহ্ন ১৮.১.২.১
আদিল ভাইয়ের ১৮.১ এবং আমার ১৮ নম্বর কমেন্টের প্রেক্ষাপট হল ব্লগার আমার-মত এর একটি গালগল্প (বা কমেন্ট) যেটা সে স্বাধীনতা ঘোষনা নিয়ে কথা হয় এরকম সব পোষ্টে কপি পেইস্ট করে। সে একই কাজ এই পোষ্টে করলে আমি তাকে ২৪ ঘন্টা সময় দিয়েছিলাম তার চাপাবাজীর প্রমান দিতে, নইলে আমি তার ভূয়ামী মুছে দেব বলেছিলাম (আমার ১৮ নম্বর কমেন্ট দ্রষ্টব্য)। স্বাভাবিক ভাবেই পরে সে আর টু শব্দ করে নাই আর আমি তার বানানো গল্প মুছে দেই। কিন্তু সে (আমার-মত) ঐ গল্প দেওয়ার পরই আদিল ভাই স্যটায়ার করে ঐ কথাগুলো বলেছিলেন (যেটা আপনি কোট করেছেন কমেন্ট ১৮.১.২ )। আশা করি বিষয়টা পরিস্কার করা গেছে।
18.1.2.10
তন্ময় মার্চ ৭, ২০১০ @ ১:৩১ পুর্বাহ্ন ১৯
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও প্রামাণ্য কিছু দলিল মার্কিন প্রশাসন, কংগ্রেস ও বিভিন্ন বিদেশী পত্রিকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার প্রচারঃ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে হোয়াইট হাউসে প্রেরিত তথ্য; যেখানে বলা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের পূর্বাংশে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। ১৯৭০ থেকে ১৯৭১ সালে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার মার্কিন অপ্রকাশিত দলিলের কভার পেজ। সেই দলিলে উল্লেখিত ২৬-২৭ মার্চ তারিখের ঘটনাবলি; যেখানে বলা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। মার্কিন সিনেটের ২৮ জুলাই, ১৯৭১ সালের কংগ্রেশনাল রেকর্ড; যেখানে বলা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। ২৭ মার্চ, ১৯৭১ ওয়াশিংটন পোস্ট; যেখানে বলা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। ২৭ মার্চ, ১৯৭১ টাইম; যেখানে বলা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। ![]()
190
আদিল মাহমুদ মার্চ ৭, ২০১০ @ ১:৩৮ পুর্বাহ্ন ২০
নির্লজ্জতারও সীমা থাকা দরকার না?
তন্ময় মার্চ ৭, ২০১০ @ ৬:৩০ অপরাহ্ন ২০.১
ভাইজান, নির্লজ্জতা এমন একটা জিনিশ যেটা যত সময় যায় ততই বাড়তে থাকে। আশা করা যায় ১৭ই এপ্রিল, ১৬ই ডিসেম্বর - এই দিবসগুলোর নতুন সংস্করন দেখা যাবে শীঘ্রই।
আদিল মাহমুদ মার্চ ৭, ২০১০ @ ৬:৫৮ অপরাহ্ন ২০.১.১
তাই তো বলছি। ১৫ ই আগষ্ট, ৭ ই মার্চ যখন পাওয়া গেছে তখন ১৬ই ডিসেম্বর ও অচিরেই পাওয়া যাবে ইনশাল্লাহ। হয়ত লালু ভালু ফালু দুলে এ জাতীয় কোন মেহন্তী বিপ্লবী নেতার কারামুক্তি দিবস, বা হারিস চৌধূরীর হিজরত দিবস (বদ লোকের ভাষায় পুকুর চুরি করে চম্পট দেওয়া) এমন কিছু না কিছু একটা পাওয়া যাবেই।
20.1.10
তন্ময় মার্চ ২১, ২০১০ @ ২:২৩ অপরাহ্ন ২১
New York Times - Mar 27, 1971 LEADER OF REBELS IN EAST PAKISTAN REPORTED SEIZED; Sheik Mijib Arrested After a Broadcast Proclaiming Region's Independence DACCA CURFEW EASED Troops Said to Be Gaining in Fighting in Cities -Heavy Losses Seen By The Associated Press March 27, 1971, Saturday NEW DELHI, Saturday, March 27 -- The Pakistan radio announced today that Sheik Mujibur Rahman, the nationalist leader of East Pakistan, had been arrested only hours after he had proclaimed his region independent and after open rebellion was reported in several cities in the East.
210
তন্ময় মার্চ ২১, ২০১০ @ ৯:৫০ অপরাহ্ন ২২
কৃতজ্ঞতা: অমি রহমান পিয়াল
220
তন্ময় মার্চ ২৫, ২০১০ @ ৫:১০ অপরাহ্ন ২৩
সুচিন্তা.কম ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া চমৎকার ভিডিওটি নিচে এমবেড করে দেওয়া হল। একই বিষয়ে আরেকটি আলোচনা --
230
তন্ময় মার্চ ২৬, ২০১০ @ ৪:১৩ অপরাহ্ন ২৪
The World: Pakistan: Toppling Over the Brink Monday, Apr. 05, 1971 The army ordered a strict 24-hour curfew in Dacca, with violators shot on sight. But soon the Free Bengal Revolutionary Radio Center, probably somewhere in Chittagong, crackled into life. Over the clandestine station. Mujib proclaimed the creation of the "sovereign independent Bengali nation," and called on its people to "resist the enemy forces at all costs in every corner of Bangla Desh." ................ At 1:30 a.m. the following day, soldiers seized the sheik in his home. Meanwhile, scattered rioting broke out in West Pakistan to protest the prospect of prolonged military rule.
240
তন্ময় মার্চ ২৬, ২০১০ @ ৪:২৯ অপরাহ্ন ২৫
পোস্ট: ২৫ মার্চ’৭১- অপারেশন সার্চলাইট, পাকবাহিনীর গণহত্যা, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা - নুরুজ্জামান মানিক ► ► ► ► ► ► ► ► ► ► ► ► ► ► ► ► ► ► ► ► The Daily Star Interview of Mr. Belal Mohammad : One of the founders of the Swadhin Bangla Betar Kendra, 1971 Volume 5, Issue 60, Tuesday March 18, 2009 The voice behind the scene March 26 this year is tinged with a shade of darkness, with the atrocities of the past month still fresh in our minds. Even then, this day is one of pride for us, when we look back and remember all those who contributed towards that gift which we cherish the most- the right to live freely in a nation of our own and the undeniable identity as Bangladeshis, is a date that not only holds significance in the pages of our nation's history, but is also etched into the hearts of all Bangladeshis. In an exclusive interview with Star Lifestyle, we bring forward one such individual, Belal Mohammad, who is not only one of the founders of the Swadhin Bangla Betar Kendra, but is also the pioneer organiser of the station, for it was this 'brain-child' if his, that was the concept behind it all. “During the time of the Non-cooperation Movement of 1971, the entire nation was in turmoil. Apart from the dreaded apprehension of what was to come that had spread throughout the nation, there was also an undeniable unrest among the Bangalis; a sense of immense agitation. We all felt that we had to do something,” he says. “On 7 March, when the Non-cooperation Movement began with the speech from Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, I remember one particular line, which he directed towards the radio. He had instructed, that if nothing on behalf of the nation was broadcasted on the national radio, then all Bangali radio officers should stop contributing to a radio that was no longer ours. “I was then a government officer and worked as a scriptwriter and artiste for the radio, and I took his words to heart. I also believed that the radio was a strong backbone for a nation. That is when the idea of Swadhin Bangla Betar Kendra came to my head. Since I was already a radio officer, I had some experience on the subject. In those days, the Chittagong Radio station had a 10 KW transmitter, which had a radius of 50 miles listening area. I, along with two of my friends and co-organizers, Abdullah-Al-Faruque, Abul Kashem Sandwip, and two other unwilling engineers, who we somehow managed to convince, set out for the transmitter station at Kalurghat. When we arrived at Kalurghat, we realised that we would also need some sort of security force to back us, because the transmitter was situated three miles away from the city, in a very remote place, devoid of any sort of human settlement. The inaugural transmission of Swadhin Bangla Betar Kendra was broadcasted at 7:30 pm on the 26 of March 1971, under the leadership of Abdullah-Al-Faruque, Abul Kashem Sandwip and myself. As content material for the first broadcast, we managed to collect a number of materials. As signature tune, we used the title song 'Joy Bangla, Banglar Gan' from the film 'Joy Bangla'. We also managed to acquire a photocopy of the leaflet that included a telegram from Bangabandhu carrying more instructions for the nation and stated Independence, and we translated that into English. We had another broadcast, at 10:00 pm that night, where, Mahmud Hossain, a close friend of mine read out an announcement, in the form of an SOS, under the name 'Hello Mankind'. That night we ended with an invitation to stay tuned at around 9:00 am the next morning. That was pretty much how we managed things the first day. On returning home to Enayet Bazar, I instructed everyone to listen to other radio stations, such as BBC and Voice of America, and jot down important news and headlines, which we could use as material for later broadcasts. Dr. Shafi's residence at Enayet Bazar was a flurry of activity that night as everyone worked with enthusiasm towards doing their part for the people. And I started thinking of ways to deal with the immediate problem at hand- that was, to gather some sort of security for the next day's broadcast. On contacting many of my friends, one of them, Taher Sobhan, mentioned that he knew the where about of a Major, who was currently away from the HQ and staying at Potiya Thana. On more questioning, Taher explained, that this 'Major', whose name he did not know, had a company of 150 soldiers under him and he had been put in charge of unloading the cargo from two Pakistan army battleships, the Babar and Swat, that had arrived at the Chittagong Port. I decided to seek this anonymous Major out, and my friend Mahmud Hossain helped us out by providing transport for us to go to Potiya. We reached Potiya on the afternoon of the 27th, and there we found ourselves face to face with Major Ziaur Rahman. As it was, the Major who my friend Taher had mentioned, was none other then Major Zia himself. On meeting the Major, who seemed genuinely excited to see us, I told him of our predicament and asked for his help, whereupon he immediately agreed to help us in every way he could. That day, we returned to Kalurghat feeling victorious. As we all got down to working, I stated to the Major, that since he held a position of importance among the people, it would be very valuable if he would address the nation in a speech over the radio. Again, he readily agreed, and we sat down to work on the speech. It was thence that we worked for the next two days. The Kalurghat radio centre was abandoned when it was heavily shelled by the Pakistan Air Force on March 30. The centre, however, resumed its second phase of activities from 3 April 1971 at Bagafa (Tripura State) with a short wave transmitter. The centre was later shifted to Shalbagan and Bagafa-Belonia Forest Hills Road, Agartala. Several other liberation activists who joined later included Abdullah-Al-Faruque, Abul Kashem Sandwip, Kazi Habibuddin Ahmed Moni, Aminur Rahman, Rashidul Hussain, A M Sharfuzzaman, Rezaul Karim Chowdhury, Syed Abdus Shaker, and Mustafa Monwar. The damaged transmitter that they brought with them from Kalurghat was made operative by engineer Syed Abdus Shaker. The daily programme in this phase consisted of a morning transmission between 8.30 and 9 and an afternoon session between 5 and 7. Swadhin Bangla Betar Kendra was renamed Bangladesh Betar on 6 December 1971, when India gave formal recognition to independent Bangladesh and its provisional government. The Bangladesh government moved to Dhaka on 22 December 1971 and Bangladesh Betar started broadcasting in independent Bangladesh on the same day. Recently, a documentary has been made on the efforts of Belal Mohammad and others behind the formation of the Swadhin Bangla Betar Kendra, under the name “Ekkattorer Shobdo Shainik”. Belal Mohammad, author of many literary works, including stories for youngsters, such as ' Joy Bangla Radio', a novel 'Amar Protiridher Bhasha' and a series of anthologies, concluded with: “Swadhin Bangla Betar Kendra was the first organised group venture by the people to fight for what they believed in. It was an organization that was conceived as a means of great requirement during that moment, and was ended and shifted to something new, after having served its purpose.” By Farina Noireet
আদিল মাহমুদ মার্চ ২৬, ২০১০ @ ৫:৩৪ অপরাহ্ন ২৫.১
এই অংশটাও বোল্ড করে দেনঃ "We also managed to acquire a photocopy of the leaflet that included a telegram from Bangabandhu carrying more instructions for the nation and stated Independence" যেই ছাগুরা নানান কূটিল সন্দেহের তীর ছোড়ে বংগবন্ধু কিভাবে ঘোষনা দেন, তিনি তো ধরা দিয়ে দেন এইসব হেনতেন তাদের মুখে চপোটাঘাতের দরকার আছে। এতে পরিষ্কার বোঝা যায় যে চট্টগ্রামসহ দেশের অনেক যায়গাতেই বংবন্ধুর সেই অয়ার্লেস বার্তা যেভাবেই হোক পৌছেছিল। বংগবন্ধুর নামে ঘোষনা নিশ্চয়ই টিক্কা খান বা নিজামী গোলাম আজমে দেয় নাই। কে কিভাবে ওয়ার্লেসে প্রচার করেছিল সেই প্রশ্নের থেকে বড় কথা হল যেকোন ভাবেই হোক সেই মেসেজ ঠিকই ট্রান্সমিট হয়েছিল। একই বার্তা দেশের আরো অনেক যায়গাতেই ২৬ তারিখ পৌছায়, বহু থানার ওয়ার্লেসেই সে মেসেজ রিসিভ করে। সুরঞ্জিত সেঙ্গুপ্ত সেসময় ন্যাপ করতেন, তিনিও এই বার্তা পান এবং এলাকায় মুক্তিযদ্ধ সংঘটিত করেন। যেসব ছাগু দাবী করেন জিয়া ২৬ তারিখ যুদ্ধ করে নাকি কালুরঘাট দখল করে স্ব-উদ্যোগে ঘোষনা দেন তাদের মাথা খুলে আমার দেখতে ইচ্ছা করে ভেতরে মগজের যায়গায় কি আছে।
তন্ময় মার্চ ২৬, ২০১০ @ ৫:৪৭ অপরাহ্ন ২৫.১.১
আমি যতদূর জানি নতুন করে না দিয়ে ঐ মন্তব্য এডিট করার অপশন নাই এই ব্লগে। এখন সেটা মুছতে গেলে খুব সম্ভবত আপনার ২৫.১ মন্তব্যটাও মুছে যাবে। আপনার চমৎকার মন্তব্যগুলো হারাতে আমার ইচ্ছা হয় না। আর আপনি তো আলাদা করে দিলেন ঐ অংশটুকু তাই কাজ চলবে আশা করি, কি বলেন? যেসব ছাগু দাবী করেন জিয়া ২৬ তারিখ যুদ্ধ করে নাকি কালুরঘাট দখল করে স্ব-উদ্যোগে ঘোষনা দেন তাদের মাথা খুলে আমার দেখতে ইচ্ছা করে ভেতরে মগজের যায়গায় কি আছে। হা হা, দুইটা ব্যাপারের যেকোন একটা বা দুটোই হতে পারে... ১. তাদের আদৌ মগজ নাই। আপনে ওদের খুলি খুললে দেখবেন এলাকাটা ফাঁকা! ২. আরেকটা যেমন জার্মানীর ডয়েশ ভেলে বলেছে যে এগুলো সবই হল ধান্দাবাজি। খেয়াল-খুশী মত ঐতিহাসিক পরিবর্তন করা হয়েছে ক্ষমতার কারনে।
আদিল মাহমুদ মার্চ ২৬, ২০১০ @ ৬:২৩ অপরাহ্ন ২৫.১.১.১
বুঝলাম। এইগুলা এত বড় রামছাগল যে এইতা আর বোজে না যে বড় বড় পোষ্ট আর কাল্পনিক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে নাচানাচি করলেই এই যুগে সত্যকে আর মিথ্যা বানানো যায় না। উলটা বারা দাবী করে আওয়ামীরা নাকি গায়ের জোরে ইতিহাস বদল করছে। চোরের মায়ের বড় গলার শিক্ষা হওয়া দরকার আছে। গত জোট সরকারের স্বাধীনতার ঘোষনা বিকৃতি নিয়ে একটা পোষ্ট দিব ভাবছি।
তন্ময় মার্চ ২৬, ২০১০ @ ৭:৪৫ অপরাহ্ন ২৫.১.১.১.১
গত জোট সরকারের স্বাধীনতার ঘোষনা বিকৃতি নিয়ে একটা পোষ্ট দিব ভাবছি। সেই পোস্ট পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
25.1.1.1.10
পরবাস মার্চ ২৬, ২০১০ @ ৮:২২ অপরাহ্ন ২৬
মীর শওকত আলী এক কথায় বলেছণ কেউ ঘোষনার জন্য বসে থাকেনি।৭ মার্চ মুজিব বলেছেন আমি যদি ঘোষণা দেবার নাও পারি---আর জনগণ সেইভাবেই এগিয়েছে।কালুর ঘাট বেতারের ট্রান্সমিশন ছিল ২৫ কিলোমিটার।সমগ্র বাংলাদেশর মুক্তিগামী জনতা সেদিন রাত থেকই প্রতিরোধের চেষ্টা করেছে।ই পি আর এবং পুলিশ সদস্যরা প্রতিরোধ করেছে কারো ঘোষনা ব্যতিরেখে।জ়নগনের মানসিক প্রস্তুতি ছিল কিন্ততাদের হাতে অস্ত্র ছিল না।আর ভারতে পালিয়ে যাওয়াটাই ছিল বুদ্বিমানের কাজ।ইহাতে সহজ হয়েছিল একত্রিত হতে? আমার বয়স্ক আত্মীয় স্বজনদের কাছে শুনেছি ১৯৭১ সালে অনেকের চেয়েই বাঘা সিদ্দিকী আলোচিত বেশী ছিল। অঞ্চল ভেদে মানূষ সেক্টর কমান্ডারদের চিনলেও তারা অনেকে কাদের সিদ্দিকীকে চিনত। পাকিস্থানী জেনারেলদের কাছেও বাঘা সিদ্দিকীর মাথার মূল্যই সমর নায়কদের মধ্যে বেশী ছিল।
তন্ময় মার্চ ২৬, ২০১০ @ ১০:২৯ অপরাহ্ন ২৬.১
এই পোষ্টটা তথ্যপ্রমানের ভিত্তিতে দেয়া। বলতে বাধ্য হচ্ছি আপনি পোষ্টের মূল সুর বুঝতে পারেন নাই। @মৌচাকে ঢিল, দু:খিত, একটা অন্য একজনের অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য মুছে দেওয়ার ফলে আপনারটাও মুছে গেল।
তন্ময় মার্চ ২৮, ২০১০ @ ২:৪৮ অপরাহ্ন ২৭
স্বাধীনতার ঘোষণা বেলাল মোহাম্মদের সাক্ষাৎকার প্রদীপ চৌধুরী | ২৫ মার্চ ২০১০ ১১:২২ অপরাহ্ন [মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অবদান ছিল অপরিসীম। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্থপতি বেলাল মোহাম্মদের এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় ২১ মে মার্চ ২০১০ তারিখে। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার প্রদীপ চৌধুরী। এর লিখিত অংশে কিছু সম্পাদনা করা হয়েছে। তিনটি পর্বে সাক্ষাৎকারটি পরিবেশিত হবে। বি. স.] প্রদীপ চৌধুরী: স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কীভাবে স্থাপন করলেন এবং বঙ্গবন্ধুর দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা কীভাবে জাতির কাছে পৌঁছে দিলেন সেটা একটু আমাদের বলবেন। বেলাল মোহাম্মদ: মুক্তিযুদ্ধের সূচনা লগ্নে ২৬ শে মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্বতঃস্ফূর্তভাবে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন দখলদার বাহিনী আগের রাতে অর্থাৎ ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতে হঠাৎ করে নিরস্ত্র জনতাকে আক্রমণ করে। ঢাকায় বিশেষ বিশেষ কি-পয়েন্ট স্টেশনগুলো দখল করে নেয়। তার মধ্যে রেডিও স্টেশনও ছিল। রেডিওতে গিয়ে তারা বিভিন্ন প্রচার শুরু করে। এদিকে অসহযোগ আন্দোলনের সময় আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু যে অসহযোগ আন্দোলন ডেকে ছিলেন তার প্রভাবে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ দলমত নির্বিশেষে সবাই উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। কতিপয় কুলাঙ্গার, রাজাকার, আলবদর যারা ছিল তারা ছাড়া বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মুখে একটি স্লোগান ছিল ‘জয় বাংলা’ এবং ‘জয় বঙ্গবন্ধু’। একক স্লোগান, একক নেতৃত্ব। সেই সময় রেডিওতে রেডিওর লোক যারা ছিল তারাও উদ্বুদ্ধ ছিল এবং ৭ই মার্চের বক্তৃতায় সুস্পষ্টভাবে রেডিওর কর্মচারীদের উপরও নির্দেশ ছিল, যদি রেডিওতে বাঙালিদের স্বার্থে কথা বলতে না দেওয়া হয় তাহলে কোনও বাঙালি যেন রেডিও অফিসে না যায়। ২৬শে মার্চ সকাল বেলা স্বাভাবিক ভাবে আমরা লক্ষ করলাম, ঢাকা কেন্দ্র থেকে সামরিক বাহিনীর কথা বলা হচ্ছে। ওদের বক্তব্যই শুধু বলা হচ্ছে। কাজেই আমরা আর যাইনি রেডিওতে। আমি আর আমার সমমনা যারা আছি তারা চিন্তা ভাবনা করছি, যে কী করা যায়। এখন ঢাকা কেন্দ্র হলো ১০০ কিলোওয়াট ট্রান্সমিটার আর চট্টগ্রাম মাত্র ১০ কিলোওয়াট। আমাদের ৫০ মাইল ব্যসার্ধ রেডি আছে, ঐ ১০ কিলোওয়াট দিয়েই একটা কাউন্টার প্রোগ্রাম করার উদ্যোগ নেওয়া যায়। প্রস্তুতি যখন নেওয়া হচ্ছিল প্রথমে আমি ছিলাম এনায়েতগঞ্জে, দাদা ডা. শফির বাড়িতে, সেখান থেকে আওয়ামী লীগের একটা অফিস ছিল জহুর হকার্স মার্কেটে, সেখানে গেলাম আমি। তিন দিনই তার সঙ্গে দেখা করার জন্য গেলাম, কিন্তু তার দেখা পেলাম না। ওখানে তরুণ যারা আমাকে একটা জীপ গাড়ি দিলেন, গাড়িটা নিয়ে প্রস্তুতি পর্বে সর্ব প্রথম কেন্দ্রকে পাহারা দেওয়ার জন্য গেলাম ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামের কাছে। তাকে পাওয়া গেল। তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ আমি পাহারার ব্যবস্থা করছি। আপনি কাজ আরম্ভ করেন।’ তো এক পর্যায়ে ব্রটকাস্টিং হাউজের সামনে পেলাম গোসাইলডাঙ্গা আওয়ামীলীগ ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ডা. আনোয়ার আলীকে। তিনি বললেন, ‘রেডিও যে চালু করবেন তাতে কী প্রচার করবেন?’ আমি বললাম, ‘কী আর প্রচার করবো বঙ্গবন্ধু আর স্বাধীনতা’ তিনি আমার হাতে একটা কাগজ ধরিয়ে দিলেন। কাগজটা হলো ২৬শে মার্চ সকাল বেলা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা মাইকিং করেছে চট্টগ্রামের প্রধান প্রধান সড়কে যে ঢাকায় আক্রমণ হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আমাদের মহান নেতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। এই বক্তব্যটুকু তার বার্তা আকারে গিয়েছিল ডা. আনোয়ার আলী বললেন। তিনি সেটাকে বাংলায় অনুবাদ করে… তখনকার দিনে হাতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে রেকর্ড করা হতো এবং সেটা দিয়েই আমরা শুরু করেছি। আমরা সন্ধ্যা ৭ টা ৪০ মিনিটে চালু করতে পেরেছি এবং বিভিন্ন কণ্ঠে নাম ছাড়া ওই বক্তব্যটুকু প্রচার করেছি। কিছুক্ষণ পর ওখানে এলেন এম এ হান্নান। তাকে আমি চিনতাম না। ডা. জাফর ছিলেন তখন জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ। তিনি আমাকে পরিচয় করে দিলেন যে ইনি আমদের হান্নান ভাই। হান্নান ভাই বললেন, ‘আমার নাম অ্যানাউন্স করো না, আমি একটা ভাষণ দেবো।’ আমি বললাম, ‘আপনার নাম অ্যানাউন্স করবো না। আপনি এমনি ভাষণ দেবেন কারণ আমরা ঘোষণা করেছি আগামী কাল, পরশু ও তরশু এমনি ভাবে প্রচার করবো। ধারাবাহিক ভাবে আমাদের পরিচিত নাম প্রচার হলে শত্রুপক্ষ বুঝে ফেলবে যে এটা কোথা থেকে হচ্ছে। আপনার কণ্ঠস্বরটাই যথেষ্ট। উনি বললেন, ‘যে দুপুর বেলা আমি কিন্তু আপনার এই কেন্দ্র থেকে ছোট্ট আকারে একটি ঘোষণা প্রচার করেছিলাম।’ সেটা আমি জানি না। অর্থাৎ সেই একই দিন ২৬ শে মার্চ দুপুর বেলা উনি (এম এ হান্নান) রেডিওর কয়েক জন পরিচিতকে নিয়ে… যারা অনিচ্ছুক ছিল এই রকম কয়েকজনকে নিয়ে রেডিও অন করিয়ে। ওটাকে বলা হবে চট্টগ্রাম বেতারের বিক্ষিপ্ত একটা অধিবেশন। সেখানে বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতা করেছেন এই মর্মে একটা বক্তব্য রয়েছে। একই বক্তব্য তখন একটু বড় করে লিখে এনেছেন উনি। সেটা আবার দ্বিতীয় বার প্রচার করলেন। এবারও নাম ছাড়া। এম এ হান্নান সাহেব ২৬ তারিখে দুই বার আসার পরে আর আসতে পারেন নি। এর পর উনি অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অন্যদিকে রফিকুল ইসলাম সাহেবকে আমি যে বলে ছিলাম সৈন্য পাঠিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করার জন্য কিন্তু তিনি পাঠান নাই। যার ফলে অত্যন্ত অসহায় বোধ করেছিলাম। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান শেষ করার পর দেখা গেল ওখানে কেউ নেই। যে দুইজন ইঞ্জিনিয়ারকে জোর করে কাজ করিয়ে ছিলাম তারা চলে গেছে। লিসেনারদের বলেছি, আপনারা আগামী দিন সকাল ৯টায় আমাদের অনুষ্ঠান শুনবেন। যদি পর্যাপ্ত সংখ্যক সহকর্মী না আসে তাহলে তো প্রচার করা যাবে না। এখন দুঃশ্চিন্তা হলো প্রথমত কালুর ঘাট থেকে এনায়েত বাজার পর্যন্ত আমরা হেঁটে পার হয়ে গেছি, আগামী কাল প্রোগ্রাম কীভাবে করবো। এদিক সেদিক টেলিফোন করেছি টেলিফোন দেওয়ার পর চন্দনপুরের তাহের সোবাহান নামে আমার এক বন্ধু ছিল, তিনি বললেন, ‘রফিকুল ইসলাম ক্যাপ্টেন কেন যে কথা দিয়ে কথা রাখলেন না জানি না। তার চেয়ে বড় একজন উচ্চ পদের মেজরের সন্ধান আমি জানি, তবে নাম জানি না। তিনি পটিয়াতে আছেন। তিনি হেড কোয়ার্টারের বাইরে এসেছিলেন বাবর এবং সোয়াত জাহাজের অস্ত্র খালাশের জন্য। তিনি আজ রাতে, মানে ২৬ শে মার্চ দিবাগত রাতে সিচুয়েশন অবজার্ভ করার জন্য পটিয়াতে আছেন।’ আমাকে উনি অ্যাডভাইজ করলেন, ২৭ তারিখ যদি পটিয়াতে যেতে পারেন নিশ্চয়ই ওনাকে ওখানে পাবেন। যেহেতু বাইরে আছেন নিশ্চয়ই উনি বঙ্গবন্ধুর সাপোর্টার হবেন। আমার আর এক বন্ধুর সাহায্যে আমরা একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে পরের দিন সকাল বেলা রওনা হয়েছি পটিয়ায়। আর আমার সহকর্মীদের বলে দিয়েছি কালুর ঘাটের দিকে আস্তে আস্তে যাবে। আমি পটিয়া থেকে আসার পর প্রোগ্রাম শুরু হবে। পটিয়ায় পৌঁছেই দেখা গেল আর্মি গিজ গিজ করছে। ওখানকার দারোগা আমার পরিচিত মানিক মিয়া। ওনাকে জানলাম। এখানে যে আর্মি অফিসার আছে তার নাম মেজর জিয়াউর রহমান। তার সঙ্গে দেখা হলো। তাকে বললাম, ‘আপনি তো এখানে ব্রটকাস্ট শুনেছেন।’ তিনি বললেন, আমরা যে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেছি তা শুনেছেন এবং খুশি হয়েছেন। আমি বললাম, ‘আপনি যদি দয়া করে আপনার এই ছাউনিটা এখান থেকে সরিয়ে কালুর ঘাটে নিয়ে যেতেন তা হলে বাড়িটা প্রটেক্ট হবে। আমরাও ওখানে স্থায়ীভাবে থাকতে পারবো। স্থায়ীভাবে না থাকতে পারলে কোনো কমিটমেন্ট করা যাবে না। ঠিক টাইমে রেডিওতে প্রোগ্রাম দেওয়া অ্যাডভেঞ্চার নয়। বেশ কিছু লোক লাগে। সব রকমের পয়েন্টে লোক বসে থাকা লাগে।’ তার পর উনি আর দেরি করেন নাই। সৈন্যদেরকে রওনা করিয়ে দিলেন। নিজেও একটা জীপে করে রওনা হলেন। আমাদের গাড়িটা ওনার গাড়ির পেছনে পেছনে চললো। পথে যেখানেই উনি বেশি মানুষের জটলা দেখেছেন, যারা কর্মস্থল ছেড়ে পোটলা-পাটলি নিয়ে চলে যাচ্ছে সেখানে তিনি দাঁড়িয়ে একটা বক্তৃতা দিলেন। ‘আপনারা যার যার কাজের জায়গায় চলে যান। ইনশাল্লাহ দু’এক দিনের মধ্যে আমরা পাঞ্জাবিদের খতম করে দেবো। আর উর্দু ভাষায় যারা কথা বলে তারা সব আমাদের দুশমন। তাদেরকে শেষ করে দেন।’ এটাই ছিল ওনার বক্তব্য। এই দশ জায়গায় থেমে থেমে যাওয়ার জন্য আমাদের কালুর ঘাটে পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। গিয়ে দেখলাম কালুর ঘাটে পাহাড়ার ব্যবস্থা হয়ে গেছে। হুইসেল পড়লো, একজন সেন্ট্রি হাত বাড়িয়ে দিল। আমাদের দুটো গাড়ি ঢুকলো। (চলবে)
270
তন্ময় মার্চ ২৮, ২০১০ @ ৫:৩২ অপরাহ্ন ২৮
জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে স্বীকার করে বেলাল মোহাম্মদ বিবৃতি না দেওয়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার (বেলাল মোহাম্মদের) পদোন্নতি বিষয়ক ফাইলে স্বাক্ষর করেননি ঢাকা, মার্চ ২৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকার স্বীকৃতি স্বরূপ এ বছর ন্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন, পদোন্নতির মামলায় আদালতের রায় পেয়েছেন; কিন্তু অবসর গ্রহণের ১৬ বছর পরও ন্যায্য অবসরভাতা পাননি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম স্থপতি বেলাল মোহাম্মদ। জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে স্বীকার করে বিবৃতি না দেওয়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পদোন্নতি বিষয়ক ফাইলে স্বাক্ষর করেননি বলে তিনি অভিযোগ করেন। বেলাল মোহাম্মদ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে চট্টগ্রাম বেতারের স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কাজ করতেন। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষণা প্রচারের ব্যবস্থা করে এক দুঃসাহসিক কাজ করেছিলেন তিনি। ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণের পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ৭৫ বছর বয়সী বেলাল মোহাম্মদ তুলে ধরেন তার বঞ্চনার কাহিনীও। মুজিবনগর সরকারে ১৯৭১ সালের ১ জুন বেতারের সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান বেলাল। '৭৬ সালের ১৬ জুলাই পদোন্নতি পেয়ে উপ-পরিচালক হন। একই পদে প্রায় ১৮ বছর কর্মরত থেকে '৯৪ সালের ১ এপ্রিল অবসর গ্রহণ করেন। স্বাধীন বাংলা বেতারের এ সৈনিক বলেন, ১৯৮২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তার অধস্তন সহকর্মীকে পদোন্নতি দিয়ে পরিচালক করা হয়। যদিও নিয়মমাফিক তারই ওই পদ পাওয়ার কথা ছিলো। পদোন্নতির দাবিতে প্রশাসনিক আদালতে মামলা করেন বেলাল মোহাম্মদ। ১৯৮৯ সালে মামলায় জয়ী হন তিনি। রায়ে তাকে জ্যেষ্ঠ নির্ধারণের পাশাপাশি তার পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বেলাল বলেন, "রায় ঘোষণার পর '৯৩ সালের ২৮ মার্চ ডিপার্টমেন্টাল প্রমোশন কমিটি বা ডিপিসি আমাকে ভূতাপেক্ষ অর্থাৎ ১৯৮২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে পদোন্নতি দিতে একটি সামারি তৈরি করে। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ওই সামারিতে স্বাক্ষর না করায় আমি সেই পদোন্নতি পাইনি। সামারি যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সেক্রেটারি কামাল সিদ্দিকী, বেতারের মহাপরিচালক শামসুজ্জামানসহ অনেকেই আমাকে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।" ওই সামারিতে খালেদা জিয়ার সাক্ষর না করার কারণ কী বলে মনে করেন- জানতে চাওয়া হলে বেতারের সাবেক এ কর্মকর্তা বলেন, "আমার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জাতির জনকের স্বাধীনতা ঘোষণা প্রচারের আমি একজন প্রত্যক্ষদর্শী। বিএনপি সরকারের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাকে দিয়ে বলাতে চেয়েছিলেন জিয়াউর রহমান নিজেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু বানোয়াট কাহিনী স্বীকার না করার অপরাধে আমার পদোন্নতির সামারিতে সই করা হয়নি।" এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ বেতারের সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ঘটনাটি নির্মম হলেও সত্য। আসলে বেলাল মোহাম্মদের সঙ্গে এক রকম অন্যায়ই করা হয়েছে। বিএনপি সরকার তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছে। তার মতো একজন যোগ্য লোককে এখনো রেডিওতে রিসোর্স পারসন বা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হলে অনুষ্ঠান এবং উপস্থাপনার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।" বেলাল মোহাম্মদ বলেন, "ব্রিটিশ আমল থেকে এ ধরনের সামারি নথি সরকার প্রধান কর্তৃক অমীমাংসিত রেখে দেওয়ার নজির দ্বিতীয়টি নেই। তাই এই ঘটনা নিষ্পত্তি হলে পূর্ব নজির হিসেবেও গণ্য হবে না। তাছাড়া অবসরপ্রাপ্তির অজুহাতে আমার পাওনা তামাদি হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।" তিনি জানান, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিষয়টি সুরাহার জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি মহাজোট সরকার গঠনের পর গত বছর আবারো আবেদন করেছেন। তবে গত এক বছরেও কোনো আগ্রগতি নেই। তিনি বলেন, "অর্থের প্রতি আমার কোনো মোহ নেই। আমি আমার প্রাপ্য সম্মানটুকু নিয়ে অবসর জীবনটা অতিবাহিত করতে চাই।" বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/পিসি/এমআই/১৪৪৫ ঘ.
280
তন্ময় মে ৬, ২০১০ @ ১২:২৫ পুর্বাহ্ন ২৯
স্বাধীনতার বিস্মৃত সেই ডাক-হরকরাদের কথা
290
|
||
| Last Updated on Thursday, 27 May 2010 23:50 |
http://www.wcsf.info/mediarchive/feed/
Advertisement
Nurte Google AdSense Module













( ০ )
( ০ )

জেগে যদি কেউ ঘুমানোর ভাব ধরে তাহলে তাকে কিভাবে জাগানো যায়?
হুম,,
স্বাধীনতা ঘোষনার পরে ৩/৪ দিন প্রচার করা হতে থাকে যে মুজিব এখনো নিরাপদে আছে!! জিয়াই সেটা করিয়েছিলেন!! সেইসাথে জিয়া নিজেকে প্রদেশিক সরকার প্রধান ঘোষনার পরে একটা কনফিউসনের সৃষ্টি হয় যা ছিল ক্ষনস্থায়ী কেননা ততদিনে পাকিস্থান মুজিবের আটকের খবর প্রকাশ করে দেয়!!
অবজারভারের খবরে কিন্তু আরেক জনের নাম বলা হয়েছে!! প্রকাশ করা হয়েছে ২৩ শে এপ্রিল, মুজীব নগরে সরকার গঠনের পরে!! আওয়ামী নেতৃত্ব জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষনাকে ভাল ভাবে নেয়নি!!
গাধাগুলার কিছু বুঝতে হবে,শুধু যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হলে দেখবেন সব বুঝবে।
দেখলেন না আজ এক জামাতি কাদের মোল্লা ফরিদপুর থেকে দৌড় খেয়েছে।
----------------------------------------------------
@সময়১০,তাই নাকি? এটা আমার জানা নাই রে ভাই।